২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অভিযানটা বাজেভাবেই শুরু করেছিল প্যারাগুয়ে। লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজেদের প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলে হারের পর ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। পরের ম্যাচে তুরস্ককে ১-০ গোলে হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে নকআউট পর্বের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায় তারা।
তবুও এখনও শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করতে পারেনি গুস্তাভো আলফারোর দল। কারণ গাণিতিকভাবে এমন কিছু সম্ভাবনা এখনও রয়েছে, যাতে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হতে পারে তাদের।
এফ গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে সুইডেন। তাদের পয়েন্ট ৪, এরই মধ্যে নকআউট নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের। ‘ই’ গ্রুপেও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ইকুয়েডরের পয়েন্ট ৪। তাদেরও রাউন্ড অব-৩২ নিশ্চিত হয়ে গেছে। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা তৃতীয় হয়েও ৪ পয়েন্ট নিয়ে রাউন্ড অব-৩২ বা নকআউট নিশ্চিত করে ফেলেছে।
কিন্তু ‘ডি’ গ্রুপে প্যারাগুয়ে কেন ৪ পয়েন্ট নিয়েও নকআউট নিশ্চিত করতে পারলো না? মূলতঃ এখনও ৬ গ্রুপের শেষের ম্যাচগুলো বাকি। ওই ম্যাচগুলোর জয়-পরাজয়ের হিসাবগুলোর ওপর নির্ভর করে প্যরাগুয়ের নকআউটের বিষয়টি নির্ধারণ হবে।
বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, প্যারাগুয়ের বিদায়ের সম্ভাবনা মাত্র ০.৮ শতাংশ। অর্থাৎ সম্ভাবনাটি খুবই ক্ষীণ হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তারা এখনও নকআউট নিশ্চিত করতে পারেনি।
প্যারাগুয়ে বাদ পড়তে হলে নিচের সবগুলো ফল একসঙ্গে হতে হবে—
গ্রুপ ‘জি’-তে বেলজিয়াম ও ইরানকে জিততে হবে। গ্রুপ ‘এইচ’-এ কেপ ভার্দে ও উরুগুয়েকে জিততে হবে। গ্রুপ ‘জে’-তে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার ম্যাচটি ১-১ বা এর চেয়ে বেশি গোলের ড্র হতে হবে। গ্রুপ ‘কে’-তে ডিআর কঙ্গোকে জিততে হবে।
গ্রুপ ‘এল’-এ আবার কয়েকটি ভিন্ন সম্ভাবনা রয়েছে। এগুলো হলো- ক্রোয়েশিয়া ও ঘানা ড্র করলে এবং পানামা যদি ইংল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারায়, তাহলে ইংল্যান্ড ৪ পয়েন্ট নিয়ে প্যারাগুয়ের চেয়ে ভালো গোল ব্যবধানে সেরা তৃতীয় হওয়ার সুযোগ পাবে।
ক্রোয়েশিয়া যদি ঘানাকে ২-০ গোলে হারায়, তাহলে ঘানা ৪ পয়েন্ট নিয়েও প্যারাগুয়ের চেয়ে ভালো গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারে। ক্রোয়েশিয়া ও ঘানা ড্র করলেও ক্রোয়েশিয়া ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে প্যারাগুয়েকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তবে বাস্তবে এই সব শর্ত একসঙ্গে পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই প্যারাগুয়ের শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনাই অনেক বেশি।
গ্রুপ পর্ব শেষে গ্রুপ ‘ডি’-এর চ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্র খেলবে বি, ই, এফ, আই বা জে গ্রুপের সেরা তৃতীয় হওয়া কোনো দলের বিপক্ষে। অন্যদিকে, গ্রুপের রানার্সআপ দল মুখোমুখি হবে গ্রুপ ‘জি’-গ্রুপের রানার্সআপের। আর যদি প্যারাগুয়ে সেরা তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউটে ওঠে, তাহলে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ই, আই অথবা কে গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন।
আরএএইচইউএল/আইএইচএস






