কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বিশাল জয় দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করেছিল জার্মানি। আগের দুই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এবারের শুরুটা এমন উড়ন্ত দেখে ফুটবলবোদ্ধারা একটু নড়েচড়ে বসেছিলেন, ‘তাহলে সেই জার্মানি ফিরে আসলো বিশ্বকাপে!’
কিন্তু পরের ম্যাচে আইভরি কোস্টের সঙ্গে কষ্টার্জিত জয় এবং গ্রুপ পর্বের সর্বশেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে হার জানিয়ে দিলো, স্বস্তিতে নেই জার্মানি। বিশ্বকাপে আন্ডারডগ হয়ে আসা কিছু কিছু দলের কাছে শুধু জার্মানি কেন, অন্য বড় দলগুলোর খাবি খাওয়া দেখলেই বোঝা যায়, বিশ্বকাপে ভিন্ন বার্তা নিয়ে আসে তারা। শুধু তাই নয়, আন্ডারডগদের এমন চমকে দেওয়া সাফল্য বিশ্বকাপকেও ভিন্ন রঙে রাঙিয়ে তোলে।
বিশ্বকাপ মানেই ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স কিংবা ইংল্যান্ডের মতো পরাশক্তিদের গল্প। আলোটা সাধারণত তাদের দিকেই থাকে; কিন্তু প্রতি বিশ্বকাপেই কোথাও না কোথাও জন্ম নেয় ভিন্ন কোনো গল্প- যে গল্পের নায়ক মঞ্চের আলোয় আসার কথা ছিল না। ২০১৪ সালে কোস্টারিকা, ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়া, ২০২২ সালে মরক্কো- প্রতিটি আসরই জন্ম দিয়েছে অন্তত একটি অপ্রত্যাশিত নায়কের।
চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চ প্রস্তুত। গ্রুপ পর্বের ম্যাচও প্রায় শেষ হওয়ার পথে। এ পর্যায়ে এসে প্রশ্ন একটাই- এবারের টুর্নামেন্টে ২০২২-এর মরক্কোর উত্তরসূরী কে হবে? কোন দলটি সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে হয়ে উঠতে পারে ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বিস্ময়? নরওয়ে, জাপান, মরক্কো, ইকুয়েডর কিংবা ঘানার মতো কয়েকটি দল ইতোমধ্যে আলোচনায়। তবে তাদের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশি প্রস্তুত ফুটবলের পরাশক্তিদের ঘুম হারাম করে দেওয়ার জন্য?
গ্রুপ পর্বের কিছু ম্যাচে ইতোমধ্যে কয়েকটি অঘটন ঘটে গেছে। বেশ কয়েকটি বড় দলকে রীতিমতো নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে তারা। এই আন্ডারডগদের মধ্যে কিছু দল আবার ইতোমধ্যে শেষ ৩২-এও উঠে গেছে। কিছু দল একটু ঝুঁকিতে থাকলেও নকআউট স্টেজে এরা যে কেউ যে কোনো বড় দলের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে।
এখন অবধি হওয়া ম্যাচগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম বড় দলকে সমালোচনায় ফেলা দলটির নাম মরক্কো। ২০২২ এর সেমিফাইনালিস্টরা এবারের আসরেও গতবারের মতো ফেবারিট না হয়েও ব্রাজিলের পিলে চমকে দিয়েছে। ব্রাজিলের সঙ্গে একত্রে গ্রুপ ‘সি’-তে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়। বিশ্বকাপ শুরুর সময় দলটি ফিফা র্যাংকিংয়ে ৭ম অবস্থানে ছিল, যে জায়গাটা থেকে আদৌ তাদেরকে এখন আর আন্ডারডগ বলা যায় কিনা তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় জাগতে পারে।
মরক্কো যে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য হট ফেবারিট কোনো দল না- সেটা একেবারে নির্দ্বিধায় বলা যায়। ২০২২ বিশ্বকাপে সবাইকে চমকে দিয়ে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে তারা সেমিফাইনালে উঠে গিয়েছিল। তবে এবারের বিশ্বকাপে যেন তারা আগের বারের চেয়েও আরও বেশি প্রস্তুত হয়ে এসেছে। ওয়ালিদ রেগরাগির অধীনে ২০২২ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও এবার তারা এসেছে ২০২৫ সালে মরক্কোকে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জেতানো কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবিকে নিয়ে।
গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে নিজেদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছে তারা। পরবর্তী দুটো ম্যাচে স্কটল্যান্ড ও হাইতির বিপক্ষে পেয়েছে জয়। তাছাড়া মরক্কোর একটা অন্যতম ইতিবাচক দিক হচ্ছে আক্রমণে ইসমাইল সাইবারি এবং ব্রাহিম দিয়াজের মতো নির্ভরযোগ্য দু’জন খেলোয়াড়কে পাওয়া। মাদ্রিদ তারকা দিয়াজ প্রথম ২ ম্যাচে দুটো এসিস্ট করেছেন, যেখানে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই গোল পেয়েছেন সাইবারি। তাছাড়া মাঝমাঠে আইয়ুব বউয়াদ্দি ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঝমাঠে মাস্টারক্লাস একটি পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন।
এদিকে তিন ম্যাচ শেষে মরক্কোর ওয়াহবি বলেছেন, ‘আমরা এখন এমন এক নতুন যাত্রার অংশ, যেখানে সত্যিই বিশ্বাস করতে হবে যে, আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার দাবিদার হতে পারি।’ অর্থাৎ তাদের স্বপ্নটাও এবার বেশ বড়। তিন ম্যাচ শেষে গ্রুপে ব্রাজিলের সাথে সমান পয়েন্ট অর্জন করলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় গ্রুপ রানারআপ হিসেবেই নক আউটে পা রাখছে দেশটি।
মরক্কোর পর কাউকে নিয়ে বলতে গেলে সেটা হবে ইকুয়েডর। লাতিন আমেরিকা বাছাই পর্ব থেকেই এই দলটি নিজেদের শিক্তিমত্তা দেখিয়ে আসছে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অবশ্য আইভরি কোস্টের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাত্রা শুরু হয় তাদের। কিন্তু কুরাসাওয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করার পর ইকুয়ের গ্রুপের শেষ ম্যাচে জার্মানির মত শক্তিশালী দলকে রুখে দিয়েছে ২-১ গোলের ব্যবধানে।
এনার ভ্যালেন্সিয়া, গঞ্জালো প্লাতা, নিলসন আঙ্গুলোরা ইকুয়েডরকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি স্বপ্ন দেখাচ্ছে তাদের রেকর্ড। সর্বশেষ ২২ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটি ম্যাচে হেরেছে লাতিন আমেরিকার দলটি। যে কারণে, তারা এরই মধ্যে প্রতিপক্ষের সামনে বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে, নকআউট পর্ব এতটা সোজা হবে না।
এরপর আসে জাপানের নাম। বিখ্যাত জার্মান গণিতবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট গত তিন বিশ্বকাপ ধরেই সফলভাবে বিশ্বকাপের শুরুতেই সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নের নামে ভবিষ্যদ্বাণী দিয়ে আসছেন। এবারের আসরে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, এবার চ্যাম্পিয়ন হবে নেদারল্যান্ডস। আর এই নেদারল্যান্ডসের সাথেই গ্রুপ এফের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় জাপান। অবিশ্বাস্যভাবে ২-২ গোলে তারা রুখে দেয় নেদারল্যান্ডসকে!
দ্বিতীয় ম্যাচে আবার অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ তিউনিসিয়াকে পেয়ে উড়ন্ত ফর্মে থাকা জাপান ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে। দুটো ম্যাচেই গোল করেছেন ক্রিস্টাল প্যালেসের আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার দাইচি কামাদা। দলের মূল স্ট্রাইকার আয়াসে উয়েদা প্রথম ম্যাচে গোল না পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ২ গোলের পাশাপাশি করেছেন ১টি এসিস্টও।
এছাড়া তাকেফুসা কুবো, তাকেহিরো তমিয়াসু, হিরোকি ইতোর মতো নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ও এবার জাপানের দলে রয়েছেন যারা বিশ্বকাপে যে কোনো টপ ফেবারিট দলের তরি ডুবিয়ে দিতে পারে। মজার বিষয় হলো, গণিতবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্টের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী জাপান এবারের আসরে ব্রাজিলকে বিদায় করতে চলেছে। আর সমীকরণ যদি না বদলে শেষ ৩২ এর ম্যাচেই ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে জাপানিজরা। তবে ভবিষ্যদ্বাণীর সম্ভাব্যতা উড়িয়ে দিলেও জাপানের এই আগুন ঝরানো ফর্মকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই এবারের বিশ্বকাপে।
চলতি বিশ্বকাপে আরেকটা আন্দারডগ হতে পারে নরওয়ে। তাদের আক্রমণভাগে রয়েছেন বর্তমান প্রজন্মের সেরা স্ট্রাইকারদের একজন আরলিং হালান্ড। তার খেলোয়াড়ি জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ এটি। প্রথম ম্যাচে ইরাককে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে নরওয়ে। আরলিং হালান্ড বিশ্বকাপে নিজের অভিষেকেই করেছেন জোড়া গোল। এছাড়া আর্সেনালের হয়ে খেলা আরেক নরওয়েজিয়ান মার্টিন ওডেগার্ড করেছেন একটি এসিস্ট। এর মধ্য দিয়ে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় নিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছে নরওয়ে।
আবার দ্বিতীয় ম্যাচে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী দল সেনেগালকেও ৩-২ গোলে হারিয়েছে তারা। এই ম্যাচেও হালান্ড দুটো গোল করেছেন। আর মজার বিষয় হলো এই ম্যাচেও একটি এসিস্ট করেছেন মার্টিন ওডেগার্ড। ধারাবাহিকভাবে ভালো না করলে টুর্নামেন্টে ভালো করা যায় না। নরওয়ের কাছে একাধিক ধারাবাহিক ভালো খেলোয়াড় থাকা এটাই নির্দেশ করে যে এবারের আসরে লম্বা রেসের ঘোড়া হতে পারে নরওয়ে।
গ্রুপ ‘আই’-তে নরওয়ের পরবর্তী ম্যাচের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ফ্রান্স। দুই ম্যাচে দুটো জয় পেলেও ফ্রান্সের চেয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় গ্রুপের দ্বিতীয় অবস্থানে আছে তারা। অবশ্য এরই মধ্যে তারা শেষ ৩২-এ নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে। পরের ম্যাচে হালান্ডের নরওয়ের মুখোমুখি হতে চলেছে এমবাপের ফ্রান্স। কাগজে কলমে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও বর্তমান প্রজন্মের এই দুই মহাতারকার দ্বৈরথ দেখার জন্য পুরো ফুটবল বিশ্ব মুখিয়ে আছে।
এদিকে মরক্কোর পর আফ্রিকার আরেক দেশ ঘানা শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে রুখে দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে কালেব ইরেঙ্কির গোলে পানামার বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয় তুলে নেওয়ার পর শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করেছে আফ্রিকান দেশটি। প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের বড় ব্যবধানে জয় পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ঘানার প্রাচীর ভেদ করে একটি গোলও বের করতে পারেনি থমাস টুখেলের শিষ্যরা।
অবশ্য এই ম্যাচকে ঘিরে ঘটে গেছে আরেক রহস্যময় মজার ঘটনা। ইংল্যান্ড ও ঘানার মধ্যকার বহুল আলোচিত ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে আফ্রিকান ঐতিহ্যবাহী ‘জুজু’ বা কথিত কালো জাদু। মাঠের খেলায় ইংল্যান্ডের আধিপত্য থাকলেও গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা হাস্যরস ও বিতর্ক।
ম্যাচ চলাকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, গ্যালারিতে থাকা ঘানার সমর্থকদের একটি অংশ সাদা পাউডার ছিটিয়ে নিজেদের দলের সাফল্যের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করছেন। অনেকেই এটিকে আফ্রিকান ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক চর্চা ‘জুজু’র অংশ বলে উল্লেখ করেন।
ম্যাচের আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঘানার তান্ত্রিক নানা কিয়াঙ্কু বোন্সাম দাবি করেছিলেন, তিনি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের ওপর এমন এক অভিশাপ দিয়েছেন, যার ফলে এই ম্যাচে তিনি গোল করতে পারবেন না।
ম্যাচে ইংল্যান্ড একাধিক আক্রমণ চালালেও ঘানার দৃঢ় রক্ষণভাগের সামনে বারবার ব্যর্থ হয়। শেষদিকে নিকো ও’রেইলির একটি শক্তিশালী শট সাইডবারে লেগে ফিরে আসে। তবে সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তটি আসে ম্যাচের একেবারে অন্তিম সময়ে। গোলপোস্টের সামনে ফাঁকা সুযোগ পেয়েও হ্যারি কেইন বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন। তার শট গোলপোস্টের অনেক ওপর দিয়ে বাইরে চলে গেলে বিস্মিত হন সমর্থকরা।
ম্যাচশেষে হাস্যরস আর ট্রলে ভেসে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। ফুটবল খেলার মাঝে স্টেডিয়ামেই কালোজাদুর এই ঘটনা একদিকে যেমন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে তেমনি অনেক দর্শকদের হাসির খোরাকও জুগিয়েছে। গ্রুপ ‘এল’-এ ২ ম্যাচ খেলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ডের সাথে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ঘানা।
এই কয়টি দলের যে কেউ নক আউট স্টেজে কোনো বড় দলের দুঃস্বপ্নের কারণ হতে পারে। তবে এর বাইরেও ইতোমধ্যে গ্রুপ পর্বে আরও কিছু ম্যাচে অপ্রত্যাশিত ফলাফল দেখা গেছে। কেপ ভার্দের মতো প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা একটি দেশ দুটো ম্যাচে গ্রুপের দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ স্পেন এবং উরুগুয়েকে রুখে দিয়েছে। স্পেনের সাথে গোলশূন্য এবংব উরুগুয়ের সাথে ২-২ গোলে ড্র করেছে তারা।
অবশ্য এই দুই ম্যাচেই তাদের অনসাধারণ সাফল্যের পেছনে অন্যতম বড় অবদান ছিলো গোলরক্ষক ভোজিনহার। ৪০ বছর বয়সী এই ফুটবলার বিশ্বকাপের অভিষেকে স্পেনের বিপক্ষে অতিমানবীয় পারফরম্যান্স দেওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়াড় বেড়েছে যেন চক্রবৃদ্ধি হারেই। তবে কেপ ভার্দেকে এখনও কেউ লম্বা রেসের ঘোড়া হিসেবে দেখছেন না।
বিশ্বকাপের ইতিহাস বলে, শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতে সাধারণত পরাশক্তিরাই। কিন্তু একই সঙ্গে ইতিহাস এটাও বলে, প্রতিটি আসরের সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে সেই দলগুলোর গল্পে, যাদের নিয়ে শুরুতে খুব কম মানুষই স্বপ্ন দেখে। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মরক্কো, জাপান, নরওয়ে, ইকুয়েডর, ঘানা কিংবা কেপ ভার্দে ইতোমধ্যেই দেখিয়ে দিয়েছে, নাম কিংবা র্যাংকিং নয়- মাঠের পারফরম্যান্সই আসল পরিচয়।
নকআউট পর্বে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে ভুলের সুযোগ কমে আসবে, আর সেখানেই বোঝা যাবে এই দলগুলোর মধ্যে কারা সত্যিই নিজেদের রূপকথা আরও দূর পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত- বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বিস্ময় হওয়ার দৌড়ে তারা সবাই নিজেদের নাম লিখিয়ে ফেলেছে। এখন শুধু সময়ই বলে দেবে, ২০২২ সালের মরক্কোর মতো এবারও কোনো আন্ডারডগ দল ফুটবল বিশ্বের সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করতে পারবে কিনা।
আরএএইচইউএল/আইএইচএস/






