একাদশে ১০ জন পরিবর্তনের খেসারত বেশ ভালোভাবেই দিতে হচ্ছে নরওয়েকে। ফ্রান্সের বিপক্ষে রীতিমতো উড়ে যাচ্ছে তারা। ফ্রান্সের গতিময় ফুটবলের সঙ্গে খাবি খেয়ে উঠতে পারছে না হালান্ডবিহীন দলটি। প্রথমার্ধেই ফ্রান্সের হয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন দেম্বেলে। অন্যান্য সতীর্থরা গোল মিস না করলে আরো গোল দিতে পারতো ফ্রান্স। ৩-১ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় তারা।
ম্যাচের প্রথম মিনিটেই এমবাপে আক্রমণের সূচনা করে। ডান পাশ থেকে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে ডি বক্সের সামান্য ভেতর থেকে ডান পায়ের জোড়ালো শট নিলে বল বারে লেগে প্রতিহত হয়।
ম্যাচের ৫ মিনিটের মাথায় আবারও সুযোগ পায় ফ্রান্স। এবার ডি বক্সের বাইরে থেকে মালো কুনের দূরপাল্লার শট দারুণভাবে রুখে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক।
তবে ম্যাচের ৭ মিনিটের মাথায় নরওয়ের রক্ষণ দূর্গে প্রথম আঘাত হানেন ওসমান দেম্বেলে। এমবাপের পা থেকে বল পেয়ে ডি বক্সের সামান্য ভেতর থেকে ডান পায়ের জোড়ালো শটে বল জালে জড়ান।
ম্যাচের ১৩ মিনিটে ডি বক্সে বল পেয়েছিল মাইকেল ওলিসে। কিন্তু তার শট নরওয়ের ডিফেন্ডার রুখে দেন। ১৪ মিনিটে সবচেয়ে সহজ সুযোগটা হাতছাড়া করে নরওয়ে। ওয়েস্টেগার্ডের বাড়ানো ক্রসে বল নিজের আয়ত্তে নিয়ে স্ট্রান্ড লারসেন ডান পায়ে গোলমুখে যে শটটি নিলেন তা চলে যায় গোলবারের উপর দিয়ে।
ম্যাচের ২০ মিনিটে আবারো এগিয়ে যায় ফ্রান্স। এবারও পিওর কাউন্টার এটাক থেকে ওলিসের বাড়ানো বল এমবাপে হয়ে যায় দেম্বেলের কাছে। ডি বক্সের অনেক বাইরে থেকে বা পায়ের দুর্দান্ত শটে গোল করেন ব্যালন ডি'অর জয়ী এই ফুটবলার। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স।
এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতে নরওয়ে এক গোল শোধ করে ফেলে। কিক অফের পর বল আক্রমণভাগে নিয়ে যান শেলডেরাপ। তার বাড়ানো পাসে ডিবক্সে খালি জায়গা পেয়ে শট নিয়ে বল জালে জড়ান আজগার্ড।
তবে আরেকবার নরওয়ের জালে বল জড়াতে বেশি দেরি হয়নি ফ্রান্সের। ম্যাচের ৩২ মিনিটে আবারো সেই দেম্বেলে বা পায়ের শটে বল জালে জড়ালে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকটি পূরণ করেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে তৃতীয় ফ্রেঞ্চ ফুটবলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব গড়লেন তিনি।
৪২ মিনিটে নরওয়ের গোলরক্ষক সেলভিক দলকে এক হালি গোল খাওয়া থেকে বাচান। বোয়েরকান ব্যাক পাস দিয়ে গোলরক্ষকে দিলে তা চলে যায় ফ্রান্সের ডুয়ের পায়ে। তিনি গোলরক্ষককে একা পেয়েও তাকে কাটিয়ে আর গোল দিতে পারেননি।
৪৫ মিনিটে এমবাপের বাড়ানো পাসে আবারো গোলরক্ষককে একা পেয়ে গোল দিতে পারেননি জুলস কুন্ডে। একের পর এক চান্স মিসের পসরা সাজিয়ে না বসলে প্রথমার্ধেই হাফ ডজন গোল দিয়ে বসতো ফ্রান্স। ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা।
আরআর/আইএন






