কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির উন্নয়নে ব্যবহারকারীদের আরও বেশি তথ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে গুগল। নতুন এ উদ্যোগের আওতায় শুধু সার্চ বক্সে লেখা তথ্য নয়, ব্যবহারকারীদের আপলোড করা ছবি, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য ফাইল সংরক্ষণ করে সেগুলো গুগলের এআই মডেলের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নকাজে ব্যবহার করা হবে।

গুগলের তথ্যমতে, ব্যবহারকারীদের সার্চ হিস্ট্রির অংশ হিসেবে ছবি, ফাইল, অডিও ও ভিডিও সংরক্ষণের আওতায় থাকবে। এর মধ্যে গুগল লেন্সে আপলোড করা ছবি, সার্চ লাইভে ব্যবহৃত রেকর্ডিং, গুগল ট্রান্সলেটের স্পিকিং প্র্যাকটিস সুবিধার অডিও, ভয়েস সার্চ এবং অন্যান্য আপলোড করা কনটেন্টও রয়েছে। এত দিন মূলত ব্যবহারকারীরা সার্চে কী লিখেছেন, সে তথ্যই সংরক্ষণ করা হতো। নতুন ব্যবস্থায় সার্চের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরনের মাধ্যমও সার্চ হিস্ট্রির অংশ হবে। ফলে ব্যবহারকারীদের কার্যক্রম সম্পর্কে আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত তথ্য সংরক্ষণের সুযোগ পাবে গুগল। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে এ তথ্য সংরক্ষণ বন্ধ করতে পারবেন। গুগল জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন এই সুবিধা চালু করা হবে।

নতুন ব্যবস্থা চালু হলে ব্যবহারকারীরা গুগল অ্যাকাউন্টে একটি বার্তা দেখতে পারবেন। সেখানে জানানো হবে, সার্চ ইতিহাস ও পারসোনালাইজড রেকমেন্ডেশন ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন কিছু সেটিংস যোগ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যবহারকারীদের ছবি, অডিওসহ অন্যান্য তথ্যও সার্চ হিস্ট্রিতে সংরক্ষণ করা হবে। প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় এসব সেটিংস পরিবর্তন করা যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক এআই মডেলের কার্যকারিতা ও নির্ভুলতা বাড়াতে শুধু টেক্সটভিত্তিক তথ্য যথেষ্ট নয়। ছবি, অডিও ও ভিডিওর মতো বৈচিত্র্যময় তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে এআই মডেল বাস্তব পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে বিশ্লেষণ করতে পারে। এ কারণেই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বহুমাত্রিক তথ্য সংগ্রহে গুরুত্ব দিচ্ছে। এআই প্রযুক্তিকে ঘিরে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে গুগলকে এগিয়ে রাখছে তাদের বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী। সার্চ, জিমেইল, ইউটিউবসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় সেবার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কাছে বিপুল পরিমাণ তথ্য জমা রয়েছে। ফলে নতুন এআই প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে গুগল তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

গুগলের তথ্য অনুযায়ী, এআই প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত তথ্য ব্যবহারকারীর গুগল অ্যাকাউন্ট থেকে পৃথক রাখা হবে। তবে কোনো ব্যবহারকারী মূল কার্যক্রমের তথ্য মুছে ফেললেও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত তথ্য সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হতে পারে। গুগলের মুখপাত্র ডেভিস থম্পসন জানিয়েছেন, নতুন এই সেটিংস ব্যবহারকারীদের আরও প্রাসঙ্গিক সার্চ ফলাফল পেতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি আগের ছবি, ভয়েস সার্চ ও অন্যান্য অনুসন্ধানের তথ্যও সহজে খুঁজে পাওয়া যাবে। ব্যবহারকারীরা চাইলে যেকোনো সময় এই সুবিধা চালু বা বন্ধ করতে পারবেন।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস