এক যুগ আগে হওয়া বহুল আলোচিত রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের হাজারের বেশি কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আবারও তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৪ সালে নিয়োগ পাওয়া ওই কর্মকর্তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, নিয়োগ পরীক্ষার মূল্যায়নপত্র, বোর্ডের অনুমোদনসহ পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার নথিপত্র তলব করেছে সংস্থাটি।

আজ বুধবার দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, রূপালী ব্যাংকের নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আকতারুল ইসলাম আরও বলেন, একই সঙ্গে ইতিমধ্যে প্রায় দুই ডজন কর্মকর্তাকে তলব করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জাল সনদ ব্যবহার, পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও চাকরি পাওয়া এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, রূপালী ব্যাংকের নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ এবং ঋণ বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এ জন্য দুদকের সহকারী পরিচালক (ব্যাংক) মোহাম্মদ আজগর হোসেনকে দলনেতা করে উপসহকারী পরিচালক মো. ইয়াছিন মোল্লাসহ দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধানী দল গঠন করা হয়েছে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, সম্প্রতি অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের তলব ও জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ে হাজির করার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

চিঠির তথ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে সময় কর্মকর্তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সব মূল সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরির আবেদনপত্র, প্রবেশপত্র, ভাইভা কার্ড এবং কোটা সুবিধার ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়ে থাকলে তার প্রমাণপত্র সঙ্গে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪ সালে রূপালী ব্যাংকে ৭৫১ জন অফিসার এবং ৪০১ জন সিনিয়র অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে একটি বিশেষ অনুসন্ধানে ওই নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে অর্ধশতাধিক সিনিয়র অফিসারের বিরুদ্ধে ভুয়া বা জাল কাগজপত্র ব্যবহার, নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ না নিয়েই চাকরি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে নথিতে।

এ দিকে পৃথক আরেকটি চিঠিতে দুদক ২০১৪ সালে নিয়োগ পাওয়া সিনিয়র অফিসার, অফিসারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ৮০১ কর্মকর্তার পূর্ণাঙ্গ নিয়োগ-সংক্রান্ত নথি চেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়ন খাতা, নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল, নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের কপি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নথি।

এ ছাড়া ওই সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় দায়িত্ব পালনকারী ব্যাংকটির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের পাশাপাশি ওই নিয়োগে অংশ নেওয়া সব প্রার্থীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং প্রতিটি ধাপে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের নথিও দুদকের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, নথিপত্র যাচাই, জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।