বলিউড অভিনেতা সুনীল শেঠি তাঁর ১৫ মাস বয়সী নাতনি ইভারাকে নিয়ে এক চমকপ্রদ দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর নাতনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একনিষ্ঠ ভক্ত এবং প্রতিদিন সকালে সে নিয়ম করে মোদির ছবির সামনে মিষ্টি উৎসর্গ করে।

অভিনেতা জানান, পরিবারের কেউ শিশুটিকে এটি শেখায়নি এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও নেই। মূলত প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিত্বের প্রতি এক ধরনের সহজাত আকর্ষণ থেকেই শিশুটি এমন আচরণ করছে বলে মনে করেন তিনি।

চলচ্চিত্র ‘ওয়েলকাম টু জঙ্গল’-এর মুক্তির প্রাক্কালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুনীল শেঠি তাঁর নাতনির এই মজার কাণ্ডকারখানাগুলো সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন।

সুনীল শেঠি ও তাঁর পরিবারের কেউই ইভারাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে আলাদা করে কিছু শেখাননি। তাহলে মাত্র ১৫ মাসের একটি শিশু কীভাবে নরেন্দ্র মোদিকে চিনল?

সেই রহস্যের উন্মোচন করে অভিনেতা জানান, একবার বিমানবন্দরে ইভারার আয়া (ন্যানি) তাঁকে মোদি সম্পর্কে বলেছিলেন। এরপর থেকেই শিশুটির মনে বিষয়টি গেঁথে যায়।

সুনীল শেঠির ভাষ্যমতে, ‘ইভারা প্রতিদিন সকালে সাঁই বাবার (জনপ্রিয় হিন্দু গুরু) একটি বই খোলে, যেখানে মোদিজির একটি ছবি রয়েছে। সেই ছবি দেখে আমার নাতনি বলে ওঠে “মোদিজি”। শুধু তাই নয়, বাড়ির গণপতি (গণেশ) মূর্তির সামনে রাখা মিষ্টির নৈবেদ্য থেকে মিষ্টি নিয়ে এসে সে মোদির ছবিতে নিবেদন করে। আমি বা ওর বাবা-মা (কেএল রাহুল ও আথিয়া শেট্টি) কেউই ওকে এটা করতে বলিনি। তবুও সে প্রতিদিন মোদিজির এই “পূজা” করে। আমার মনে হয়, ওঁর (নরেন্দ্র মোদি) মধ্যে নিশ্চয়ই কোনো জাদুকরি ক্ষমতা রয়েছে।’

সাক্ষাৎকারে সুনীল শেঠি স্পষ্ট করে দেন যে, নরেন্দ্র মোদির প্রতি তাঁর এই মুগ্ধতা কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অংশ নয়।

দেশপ্রেম ও একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে সুনীল শেঠি বলেন, ‘আমি সব সময়ই বলি যে, আমি মোদিজির একজন বড় ভক্ত। তবে এখানে আমি কোনো রাজনৈতিক দলের কথা বলছি না, একজন রাষ্ট্রনেতার কথাই বলছি। কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যদি আমাকে অনুপ্রাণিত করেন বা আমার চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করেন, সেটাই বড় কথা। আমি যেমন আমার দেশকে ভালোবাসি, তেমনই মোদিজিকেও ভালোবাসি। ওঁর ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত আকর্ষণীয়।’

২০২৫ সালের মার্চ মাসে কন্যাসন্তানের মা-বাবা হন বলিউড অভিনেত্রী আথিয়া শেট্টি এবং ভারতীয় ক্রিকেটার কেএল রাহুল। নাতনি ইভারার জন্মের পর থেকে সুনীল শেঠির অবসর সময়ের একটি বড় অংশ কাটছে তার সঙ্গে।

নাতনির প্রতি তাঁর গভীর স্নেহের কথা জানিয়ে এই অভিনেতা বলেন, ইভারা দেখতে হুবহু আথিয়ার মতো হয়েছে। তিনি তাকে আথিয়ার ‘২.০ সংস্করণ’ হিসেবে অভিহিত করেন। কাজ শেষে বাড়ি ফিরেই তিনি সবার আগে নাতনিকে খোঁজেন এবং তার সঙ্গে সময় কাটান।

সুনীল শেঠির এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।