আলমডাঙ্গায় টেন্ডার ছাড়াই ১৮ প্রকল্প পছন্দের ব্যক্তিদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। টেন্ডার আহ্বান ও স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রচলিত নির্দেশনা উপেক্ষা করে এডিপির ৪৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ১৮টি প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পগুলো জামায়াতের নেতাকর্মী বা সমর্থকদের নামে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোমবার উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১ জুন প্রকল্পগুলো প্রাথমিকভাবে বিভাজনের পর ১৪ জুন অনুষ্ঠিত উপজেলা মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় ১৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ-সদস্যের পরামর্শক্রমে প্রকল্পগুলো অনুমোদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পগুলোর প্রাক্কলন প্রস্তুত করে আরএফকিউ (রিকোয়েস্ট ফর কোটেশন) পদ্ধতিতে জুন মাসের মধ্যেই বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদ ৭ ও ১৪ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৃথক চিঠি দিয়ে অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রকল্পগুলো টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিলেন। তবে পরে প্রকল্পগুলো অনুমোদনের পর ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে কালিদাসপুরের মেসার্স নাসিমা এন্টারপ্রাইজ, হাউসপুরের শম্পা বিল্ডার্স, আলমডাঙ্গার মেসার্স সাত্তার এন্টারপ্রাইজের নামে দুটি এবং মো. হাফিজুর রহমানের নামে দুটি প্রকল্প। অভিযোগ রয়েছে, হাফিজুর রহমান একজন হোটেল ব্যবসায়ী। স্থানীয়দের দাবি, তিনি অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সর্বশেষ নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন। অনুমোদিত ১৮টি প্রকল্পের মধ্যে ১৪টি আরএফকিউ এবং চারটি প্রকল্প পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী ও বাইসাইকেল বিতরণ, প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ার সরবরাহ, বিভিন্ন ইউনিয়নে সোলার লাইট স্থাপন, রাস্তা উন্নয়ন ও সোলিং, বৃক্ষরোপণ, স্বাস্থ্যসামগ্রী সরবরাহ এবং ব্রিজ সংস্কারের কাজ।

টেন্ডার ছাড়াই প্রকল্প বরাদ্দের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে সোমবার উপজেলা পরিষদ ও এলজিইডি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ দেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদ বলেন, ‘২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের শেষদিকে এডিপির অতিরিক্ত চতুর্থ কিস্তির আওতায় প্রকল্পগুলো গ্রহণ করা হয়। উপজেলা মাসিক সমন্বয় কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোটেশন আহ্বান করে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর আক্তার বলেন, ‘সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া মেইনটেইন করে কাজ করা হয়েছে।’