বছরের অর্ধেক পেরিয়ে গেছে। এই ছয় মাসে বিজ্ঞানবিশ্বের নানা শাখায় প্রকাশিত হয়েছে চমৎকার সব বই। মহাবিশ্বের রহস্য থেকে মানুষের চেতনা; সবই উঠে এসেছে সহজ-সরল বর্ণনায়। বিজ্ঞান সাময়িকী নিউ সায়েন্টিস্ট-এর লিজ এলসের হাত ধরে ২০২৬ সালের এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সেরা আরও ৪টি জনপ্রিয় বিজ্ঞান বইয়ের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো।

দ্য এজ অব স্পেস-টাইম—চান্ডা প্রেসকড-ওয়াইনস্টেইন

বইটির উপশিরোনাম লেখা: পার্টিকেলস, পোয়েট্রি অ্যান্ড দ্য কসমিক ড্রিম বুগি। এই লাইনটি দেখেই বোঝা যায়, এটি প্রচলিত বিজ্ঞান বই নয়।

চন্দা প্রেসকড-ওয়েইনস্টাইন একজন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি ডার্ক ম্যাটার, নিউট্রন নক্ষত্র, মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থা এবং মহাকাশবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, সমাজ এবং বৈষম্যের সম্পর্ক নিয়েও লেখেন।

বইটিতে আধুনিক মহাকাশবিদ্যা, মৌলিক কণা, মহাবিশ্বের গঠন, ডার্ক ম্যাটার, স্থান-কালের প্রকৃতি এবং মানুষের কৌতূহল—এসব বিষয়কে একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। লেখক দেখিয়েছেন, বিজ্ঞান কেবল তথ্যের সমষ্টি নয়; এটি মানুষের কল্পনা, দর্শন, ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

এটি এমন একটি বই, যেখানে বিজ্ঞান, সাহিত্য, কবিতা এবং আত্মজিজ্ঞাসা একসঙ্গে মিশে গেছে।

চান্ডা প্রেসকড-ওয়াইনস্টেইনের লেখা দ্য এজ অব স্পেস-টাইম বইয়ের প্রচ্ছদ

একনজরে

দ্য এজ অব স্পেস-টাইম

লেখক: চান্ডা প্রেসকড-ওয়াইনস্টেইন

প্রকাশক: প্যান্থিয়ন

পৃষ্ঠা: ৩৬৮

দাম: ৩২ ডলার

প্রথম প্রকাশ: ৭ এপ্রিল, ২০২৬

২০২৬ সালের জনপ্রিয় কিছু বিজ্ঞান বই

দ্য এজ কোড—ডেভিড কক্স

আপনার বয়স ৩৫ বছর হলেও শরীরের প্রকৃত জৈবিক বয়স যদি ৪০ হয়, তাহলে কী হবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বিজ্ঞান সাংবাদিক ডেভিড কক্স লিখেছেন এই বইটি।

বইটির মূল বিষয় জেরোসায়েন্স। অর্থাৎ বয়স বাড়ার জৈবিক প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা। লেখক বিভিন্ন গবেষণাগার ঘুরে দেখেছেন, নিজের শরীরের নানা পরীক্ষা করিয়েছেন এবং আধুনিক বার্ধক্যবিজ্ঞান সম্পর্কে সহজ ভাষায় আলোচনা করেছেন।

এখানে বায়োলজিক্যাল এজ, ডিএনএ মিথাইলেশন, এপিজেনেটিক ক্লক, কোষের ক্ষয়, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, ঘুম, উপবাস এবং দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত সর্বশেষ গবেষণাগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

বইটির একটি বড় দিক হলো, এটি কোনো অলৌকিক যৌবন ধরে রাখার দাবি করে না। বরং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে দেখায়, জীবনযাপনের কিছু পরিবর্তন কীভাবে শরীরের জৈবিক বয়স কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ডেভিড কক্সের লেখা দ্য এজ কোড বইয়ের প্রচ্ছদ

একনজরে

দ্য এজ কোড

লেখক: ডেভিড কক্স

প্রকাশক: ফোর্থ এস্টেড লিঃ

পৃষ্ঠা: ৪১৬

দাম: ৩১ ডলার

প্রথম প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

জুন মাসের জনপ্রিয় ১৩ সায়েন্স ফিকশন বই

উই আর নট মেশিনস—সারাহ ও'কনর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি শুধু মানুষের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে? নাকি প্রযুক্তি ধীরে ধীরে মানুষকেও যন্ত্রের মতো কাজ করতে বাধ্য করছে? এই বইয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন সারাহ ও'কনর। লেখক দীর্ঘদিন ধরে শ্রমবাজার ও প্রযুক্তি নিয়ে লিখছেন।

বইটিতে দেখানো হয়েছে, অনেক কর্মক্ষেত্রে সফটওয়্যার, অ্যালগরিদম ও এআইয়ের কারণে কর্মীদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে। কাজ আরও বেশি নিয়মবদ্ধ, পুনরাবৃত্তিমূলক এবং যন্ত্রনির্ভর হয়ে উঠছে। ফলে মানুষের সৃজনশীলতা ও দক্ষতার ব্যবহারও সীমিত হয়ে পড়ছে।

ও'কনর বিভিন্ন শিল্প, কল সেন্টার, গুদাম, হাসপাতাল এবং অফিসের উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন, প্রযুক্তি উৎপাদনশীলতা বাড়ালেও সব সময় মানুষের কাজকে উন্নত করে না। বইটির শেষ অংশে তিনি যুক্তি দিয়েছেন, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র কেমন হবে, তা নির্ধারণে শুধু প্রযুক্তি কোম্পানির নয়, কর্মীদেরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।

সারাহ ও'কনর লেখা উই আর নট মেশিনস বইয়ের প্রচ্ছদ

একনজরে

উই আর নট মেশিনস

লেখক: সারাহ ও'কনর

প্রকাশক: অ্যালেন লেন

পৃষ্ঠা: ২৫৬

দাম: ১৯ ইউরো

প্রথম প্রকাশ: ৪ জুন, ২০২৬

মে মাসের জনপ্রিয় ১২ সায়েন্স ফিকশন বই

প্রজেক্ট মাভেন— ক্যাটরিনা ম্যানসন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে বিতর্কিত ব্যবহারগুলোর একটি হলো যুদ্ধক্ষেত্রে এর প্রয়োগ। সেই বাস্তব গল্পই তুলে ধরেছে লেখক এই বইয়ে।

২০১৭ সালে ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স একটি প্রকল্প চালু করে, যার নাম ছিল প্রোজেক্ট মাভেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ড্রোন থেকে আসা বিপুল পরিমাণ ভিডিও বিশ্লেষণ করে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করা। মানুষের পক্ষে যে কাজ করতে অনেক সময় লাগত, এআই তা অনেক দ্রুত করতে পারে।

বইটিতে দেখানো হয়েছে, সময়ের সঙ্গে এই প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হয়েছে। বিভিন্ন সামরিক অভিযান, সীমান্ত পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা কার্যক্রমে এআই কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন লেখক।

ম্যানসন শুধু প্রযুক্তিগত দিক নয়, এর নৈতিক প্রশ্নও তুলেছেন। একটি অ্যালগরিদম কি মানুষের জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে? যুদ্ধক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের দায় কার? ভবিষ্যতের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রব্যবস্থা কতটা নিরাপদ?

এটি মূলত এআই, যুদ্ধনীতি, সামরিক প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে লেখা একটি অনুসন্ধানধর্মী বই।

ক্যাটরিনা ম্যানসনের লেখা প্রজেক্ট মাভেন বইয়ের প্রচ্ছদ

একনজরে

প্রজেক্ট মাভেন

লেখক: ক্যাটরিনা ম্যানসন

প্রকাশক: ডব্লিউ ডব্লিউ নর্টন অ্যান্ড কোম্পানি

পৃষ্ঠা: ৪১৬

দাম: ২৩ ইউরো

প্রথম প্রকাশ: ২৪ মার্চ, ২০২৬

বই পড়ার অভ্যাস আবার ফিরিয়ে আনবেন যেভাবে