রাষ্ট্রায়ত্ত সাবমেরিন ক্যাবলগুলোর মোট ব্যান্ডউইডথ সক্ষমতা ২০২৭ সাল নাগাদ ৪১ হাজার জিবিপিএস হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস (বিএসসি)। রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিটির দাবি, এই সক্ষমতায় দেশের ক্রমবর্ধমান ব্যান্ডউইডথ চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে।

আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে সাম্প্রতিক কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ব্যান্ডউইডথ ঘাটতি ও ইন্টারনেটের দাম বাড়ার আশঙ্কাসংক্রান্ত প্রতিবেদনকে ‘বিভ্রান্তিকর’ ও ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদ্যমান দুটি ট্রাস্টেড সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম সি-মি-উই-৪ ও সি-মি-উই-৫-এর মাধ্যমে ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করছে বিএসসিপিএলসি। ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় আরও একটি ট্রাস্টেড সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম সি-মি-উই-৬ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বর্তমানে দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ২০০ জিবিপিএস। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। আরও প্রায় ৩ হাজার ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে বিএসসি।

২০২৭ সালে সি-মি-উই-৬ ক্যাবল চালু হলে এর মাধ্যমে মোট ৩৪ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা অর্জিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৩০ সালে দেশে মোট ব্যান্ডউইডথ চাহিদা হবে ৩০ হাজার জিবিপিএস। বিএসসিপিএলসির দাবি, ২০২৭ সাল নাগাদ রাষ্ট্রায়ত্ত সাবমেরিন ক্যাবলগুলোর সক্ষমতা ৪১ হাজার জিবিপিএসে পৌঁছাবে।

দেশের ছয়টি আইটিসি অপারেটরের মাধ্যমেও চাহিদা অনুযায়ী ব্যান্ডউইডথ আমদানি করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। চতুর্থ সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার কার্যক্রমও শুরু করেছে বিএসসিপিএলসি।

দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইডথ চাহিদা পূরণে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকার দাবি করেছে কোম্পানিটি। আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ সরবরাহে বর্তমানে কোনো ঘাটতি নেই এবং ভবিষ্যতেও ঘাটতির সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে বিএসসিপিএলসি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিএসসিপিএলসি ইতোমধ্যে ব্যান্ডউইডথের ক্রমাগত মূল্য হ্রাসসহ গ্রাহকদের জন্য আকর্ষণীয় প্যাকেজে ব্যান্ডউইডথ প্রদান করছে, যা আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথকে আরও সাশ্রয়ী করেছে। ভবিষ্যতে ব্যান্ডউইডথের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিএসসিপিএলসি আরও সাশ্রয়ী মূল্যে ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করবে।’

গত ৩১ আগস্ট ‘ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইডথ চাহিদা পূরণে নতুন সাবমেরিন ক্যাবলের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক কর্মশালায় বেসরকারি খাতের সাবমেরিন প্রকল্পে বিনিয়োগকারী দেশীয় উদ্যোক্তাদের কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিরা বলেন, নতুন সাবমেরিন ক্যাবল না এলে বাংলাদেশ ব্যান্ডউইডথ সংকটে পড়বে। এর ফলে ইন্টারনেটের দামও বাড়বে বলে তাঁদের আশঙ্কা।

বেসরকারি উদ্যোগে সাবমেরিন ক্যাবল চালু হলে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলা সম্ভব হবে বলেও মত দেন কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিরা। সরকারি অনুমোদনের জটিলতায় ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ এসেও বেসরকারি সাবমেরিন প্রকল্পের কাজ আটকে আছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।