উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদীগুলোর বিষাদময় চোখরাঙানির মধ্যেই যোগ হয়েছে আকাশে ছেয়ে থাকা শ্রাবণের মেঘ। একদিকে সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরীর মতো প্রধান নদীগুলোর বিপদসীমার ওপরে আনাগোনা, অন্যদিকে সারা দেশেই মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ। জোড়া এই ধাক্কায় দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার নদীবেষ্টিত মানুষের জীবন যেন চরম এক অনিশ্চয়তায় এসে ঠেকেছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, একদিকে দেশের নদ-নদীর গতিপ্রকৃতি যেমন ঝুঁকিমুক্ত নয়, তেমনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির তীব্রতা থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
বাপাউবোর সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের ছাতকে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার নিচে নেমে আসায় স্থানীয়ভাবে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে বটে, কিন্তু সামগ্রিক বন্যা আতঙ্ক কাটেনি। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণা—এই তিন জেলায় নদীর পানি এখনও আশঙ্কাজনক।
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বর্তমানে বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদীর পানি সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপরে অবস্থান করছে। অন্যদিকে নেত্রকোণার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার কমলেও তা এখনো বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।
উজানের ঢলের সাথে নদীগুলো যখন উপচে পড়ার উপক্রম, ঠিক তখনই দেশজুড়ে ঝরছে বৃষ্টি। মৌসুমি বায়ু দক্ষিণাঞ্চলে বেশ সক্রিয় থাকায় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় অবস্থান করায় বর্ষণের এই ধারা অন্তত আগামী ২৪ জুলাই পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জায়গায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বৃষ্টিপাতের চিত্রে দেখা গেছে, গতকাল দেশে সর্বোচ্চ ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে গোপালগঞ্জে। আর আজ ভোর ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। বৃষ্টির কারণে সারা দেশেই দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
বৃষ্টির পাশাপাশি রাজধানীসহ রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের ১৭টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণে দেশের নদী বা নৌবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।







