দায়িত্ব গ্রহণের নয় মাস পার হলেও বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। একই সঙ্গে বর্তমান ডাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দ্রুত নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির সভাপতি দূর্জয় রায় ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মোস্তাকিম এসব দাবি জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান ডাকসু আবাসন, খাদ্য, নিরাপদ পানি, গবেষণা, নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য, প্রশাসনিক সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মৌলিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোরও বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি করা হয়।
এতে বলা হয়, নতুন হল নির্মাণের বিষয়ে বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবায়নে ডাকসুর দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, নিরাপদ পানির সুবিধা না পাওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান, প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও ডাকসুর কার্যকর ভূমিকা ছিল না বলে অভিযোগ করা হয়।
গবেষণা খাত নিয়েও সমালোচনা করে ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটির দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বাজেট, আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নালে প্রবেশাধিকার, গবেষণা প্রশিক্ষণ, গবেষণা সহকারী নিয়োগ, গবেষণা বৃত্তি এবং থিসিস শিক্ষার্থীদের সহায়তা বৃদ্ধির মতো বিষয়ে ডাকসু কোনো উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেয়নি।
খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসের ক্যানটিনগুলোতে উচ্চমূল্য ও মানহীন খাবারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও এ বিষয়ে ডাকসুর কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। পাশাপাশি প্রশাসনিক সেবার ডিজিটালাইজেশন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি করা হয়।
নিরাপত্তা ইস্যুতেও বর্তমান ডাকসুর সমালোচনা করেছে ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটির অভিযোগ, ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো সমস্যা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনায় ডাকসুর দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল না। এ ছাড়া যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়েও ডাকসুর কার্যক্রমকে অপর্যাপ্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয়, বর্তমান ডাকসু শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিবর্তে দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়েছে।
ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা বলেন, বর্তমান ডাকসু শিক্ষার্থীদের আস্থা হারিয়েছে। তাই বর্তমান পরিষদের মেয়াদ আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন।





