জুলাই বিপ্লবে ফ্যাসিবাদী বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধে বৃহত্তর উত্তরাসহ ঢাকা উত্তরের জনতার বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্মরণে আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের কোনো চেষ্টা হলে উত্তরার জনগণই সবার আগে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। রোববার (১৯ জুলাই) উত্তরার মীর মুগ্ধ মঞ্চে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উত্তরার শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই অভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। শহীদদের জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ধীর গতিতে তাঁরা অনুষ্ঠানে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘উত্তরা ছিল গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান হটস্পট ও প্রতিরোধের প্রধান দুর্গ। ছাব্বিশ জুলাই উত্তরা থেকে গণভবনমুখী ঐতিহাসিক যাত্রাই শেখ হাসিনাকে পালাতে বাধ্য করেছিল। এই উত্তরার অবদান আমরা কখনো ভুলে যাব না।’

নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দুই বছর আগের এই দিনে আমাকে গুম করা হয়েছিল, সেদিন হাসিনার বাহিনী বহু মানুষকে গুম করেছিল। আজ আমাদের একটাই চাওয়া—স্বৈরাচার ও তাদের দোসরদের বিচার। স্বৈরাচারের বিচার না হলে ভবিষ্যতে আবারও স্বৈরাচার তৈরির সুযোগ থেকে যাবে।’ যারা পালিয়ে গেছে তারা আর ফিরে আসবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাহস থাকলে তারা না পালিয়ে বিচারের মুখোমুখি হতো। যদি আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের চেষ্টা হয়, তবে উত্তরা থেকেই সেই প্রতিরোধ শুরু হবে।’

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিএনপি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এ দেশের পরিবর্তনের পথে বিএনপি এখন বড় বাধা। তারা এখন একত্রিশ দফার কথা ভুলে গেছে এবং জুলাই সনদের ব্যাপারে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে প্রতারণা করছে। আমি তাদের বলব, নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। সংবিধান সংশোধনের আগে বিএনপিকে নিজেদের সংশোধন হতে হবে।’

প্রতিবেশী রাষ্ট্র সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন প্রতিবেশী বদলানো যায় না। কিন্তু আমি বলতে চাই, যে প্রতিবেশী আমাদের পরিবারের সদস্যদের খুন করে, সেই প্রতিবেশীর সঙ্গে কোনোভাবেই ভালো সম্পর্ক রাখা যায় না।’

অনুষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত উত্তরা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারসহ শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইয়ের আহত যোদ্ধারা।