ভয়েসের গবেষণা
বাংলাদেশে পরিবেশ সুরক্ষার আইন হিসেবে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ প্রণয়ন করা হলেও মাঠপর্যায়ে এর প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন হয়নি। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে অবৈজ্ঞানিক উপায়ে ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে, অন্যদিকে শতকোটি টাকার মূল্যবান খনিজ ও বৈশ্বিক সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে।
আজ সোমবার লালমাটিয়ার এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ মিলনায়তনে বেসরকারি সংস্থা ভয়েস আয়োজিত সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
ভয়েসের তথ্য অনুসারে, সাধারণ মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও টেলিভিশন সার্কিট বোর্ডে সোনা, রুপা, তামা ও কোবাল্টের মতো অত্যন্ত মূল্যবান এবং বিরল ধাতু থাকে, যা সঠিকভাবে নিষ্কাশন করা গেলে তা দেশের শিল্প খাতে পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব ছিল। কিন্তু এই মূল্যবান বর্জ্যগুলোকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে নিষ্কাশন না করার কারণে সম্পদের অপচয় হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, অনিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অবৈজ্ঞানিক উপায়ে ই-বর্জ্য পোড়ানোর কারণে দেশের মাটি ও বাতাসে ভারী ধাতুর বিষাক্ততা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সীমার চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার মাটিতে সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে ৫৮৭ পিপিএম, যা স্বাভাবিক সীমার চেয়ে অত্যন্ত বেশি এবং মানবদেহের জন্য মারাত্মক বিষাক্ত।
ভয়েসের গবেষণা অনুসারে, জরিপ করা ১৫টি ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ২২ শতাংশের নিজস্ব পণ্য ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। একইভাবে মাত্র ২২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত বা আমদানি করা পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার সীমিতকরণ মানদণ্ড যাচাই করে থাকে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, গত অর্থবছরে এই শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একটিও তাদের মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো ইলেকট্রনিক পণ্য সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেনি।
অনুষ্ঠানে ভয়েসের নির্বাহী প্রধান আহমেদ স্বপন মাহমুদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন গবেষক আমিনুর রসূল বাবুল, উই সোসাইটি বাংলাদেশের আকতার উল আলম, ভয়েসের উপপরিচালক মুসাররাত মাহেরা, বাপার সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলনের (পরিজা) সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল প্রমুখ।








