বগুড়ার ধুনটে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ের জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আবুল হোসেন জহুরা উচ্চবিদ্যালয়ের মালিকানাধীন ও দখলীয় প্রায় এক বিঘা জমি নিজেদের দাবি করে জবরদখলের চেষ্টা করছেন এলাঙ্গী ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন ফকির ও তাঁর লোকজন। প্রতিকার চেয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আশরাফুন খাতুন বাদী হয়ে বগুড়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। শুনানি শেষে গত ২২ জুন আদালতের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা দুই মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারির নির্দেশ দেন থানা-পুলিশকে। কিন্তু আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ওই জায়গা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন আমজাদ হোসেন। এতে বাধা দিলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন তাঁরা। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী জাফর আলী ফকির বাদী হয়ে গত রোববার (১২ জুলাই) আমজাদ হোসেন ফকিরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি—আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জমি জবরদখলের অপচেষ্টায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
রাঙ্গামাটি আবুল হোসেন জহুরা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুন খাতুন বলেন, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর বিবাদীপক্ষ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা বিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়নমূলক ও প্রশাসনিক কাজে সরাসরি বাধার সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।
অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন ফকির বলেন, ‘আদালত থেকে শুধু একপক্ষের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা হয় না। এ কারণে আমি নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছি। এর আগেই প্রধান শিক্ষক জোর করে ওই জমিতে শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের চেষ্টা করেছে।’
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশ আমজাদ হোসেন ফকিরকে জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে বিদ্যালয়ের জমিতে প্রবেশ না করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এই আদেশ অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষক-কর্মচারীদের হুমকির অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও ১৪৪ ধারা জারি অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








