ফেনীর সোনাগাজীতে এক মৎস্য খামারির বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলায় বিএনপি ও যুবদলের ৯ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৯ জুন) ফেনীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ছালামত উল্যাহ শুনানি শেষে আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাজল হক সোহেল, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন, যুবদল কর্মী মোশারফ হোসেন, মো. আসিফ, আরিফ শুভ, মো. নীরব, বেলাল হোসেন, দাউদুল ইসলাম ও মো. সৌরভ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি সোনাগাজী মুহুরী প্রজেক্ট এলাকায় মৎস্য খামারি হাজী সিরাজুল হকের ছেলেরা খামার থেকে মালামাল আনতে গেলে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন। ওই সময় মারধরের পাশাপাশি একটি মোটরসাইকেলসহ প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানোর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষরা গত ৩ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে হাজী সিরাজুল হকের নতুন বসত বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়।

হামলাকারীরা রান্নাঘরে অগ্নিসংযোগ করে, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করা হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পরদিন ৪ মার্চ হাজী সিরাজুল হকের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, মামলার পর আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে অস্থায়ী জামিন নেন। এর মধ্যে বাদীর সঙ্গে আপস-মীমাংসার আলোচনা চললেও আজ নির্ধারিত তারিখে আসামিরা ফেনীর আদালতে আত্মসমর্পণ করে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। তবে আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ফেনী আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আসামিরা আজ হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেছিলেন। আদালত শুনানি শেষে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/কেএইচকে/জেআইএম