২০২৪ সালের ১৩ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটাবৈষম্য নিরসনে সংসদে জরুরি অধিবেশন ডেকে আইন পাশের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানান তারা। আন্দোলনকারীরা বঙ্গভবন অভিমুখে গণপদযাত্রা ও রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেন। অন্যদিকে কোটা বহাল রাখার দাবিতে যশোরে বীর মুক্তিযোদ্ধারা সংবাদ সম্মেলন করেন এবং ঝালকাঠির নলছিটিতে বিক্ষোভ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান কমান্ড।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে বিরোধীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে কঠোর অবস্থান নেয় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আন্দোলনকারীদের দাবি এবং বক্তব্যকে সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির বিরোধী বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশকে মারধর এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা হয়। ১২ জুলাই রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের গাড়িচালক খলিলুর রহমান শাহবাগ থানায় এ মামলা করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) হারুন অর রশীদ এদিন বলেন, আন্দোলনে কোনো গোষ্ঠীর ইন্ধনের বিষয়টি বের করতে ডিবি ও পুলিশ কাজ করছে। কেউ যদি আদালতের আদেশ না মানে, আন্দোলনের নামে জানমালের ক্ষতি করে, সড়ক অবরোধ করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে যৌক্তিক কাজ, সেটাই করা হবে।
১৩ জুলাই সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনের তৎকালীন অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, আমাদের এতদিন ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ছিল। এ কর্মসূচিকে অনেকে জনদুর্ভোগ হিসাবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। আমরা বলতে চাই, সুস্থ সন্তান জন্মদানের জন্য সাময়িকভাবে প্রসবকালীন ব্যথা সহ্য করতে হয়। আমাদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও ছাত্র ধর্মঘট চলছে। সেটির পাশাপাশি রোববারের (১৪ জুলাই) কর্মসূচি থাকবে সব গ্রেডে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের জন্য রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া ও গণপদযাত্রা। সংসদে আইন পাশ করে কোটার যৌক্তিক সংস্কার না করা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। হাসনাত বলেন, ঢাকার আশপাশের যত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে, এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী গণপদযাত্রায় অংশ নেবেন।
অন্যদিকে এদিন সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বহাল রাখার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোরের মুক্তিযোদ্ধারা। যশোর জেলার সর্বস্তরের মুক্তিযোদ্ধার ব্যানারে দুপুরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। এতে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকার অবমাননা ও সুপ্রিমকোর্টের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
রাজবাড়ীতে কোটা প্রথার সংস্কার, শিক্ষা পণ্যের দাম কমানো, পরিবহণে হাফ ভাড়া ও শিক্ষায় দুর্নীতি বন্ধ করার দাবিতে জেলা ছাত্র ইউনিয়ন বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে রেলগেট এলাকায় গেলে ছাত্রদের বুঝিয়ে শান্ত করে পুলিশ। দুপুর ১২টায় রাজবাড়ী রেলগেট শহীদ স্মৃতি চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন জেলা সংসদের নেতারা। পরে ১নং রেলগেটে গিয়ে রেললাইনের ওপর অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা।
নলছিটিতে কোটাবিরোধী আন্দোলনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। বেলা ১১টায় বাসস্ট্যান্ডে বিজয় উল্লাস ’৭১-এর সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান কমান্ডের নেতারা অংশ নেন।








