শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়াই যেন এই আর্জেন্টিনার পরিচয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে একের পর এক ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল করে প্রতিপক্ষকে কাবু করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও শেষ দিকে দুই গোল করে তারা শুধু ফাইনালের টিকিটই নিশ্চিত করেনি, গড়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের নতুন রেকর্ডও।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার দুই গোলই আসে ম্যাচের শেষ দিকে। ৮৫তম মিনিটে প্রথম গোলের পর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯০+২) আসে জয়সূচক গোল।

এই দুই গোলের মাধ্যমে ২০২৬ বিশ্বকাপে ৮৫তম মিনিট থেকে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত (অতিরিক্ত সময়সহ) আর্জেন্টিনার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮টি।

এটি একটি বিশ্বকাপের এক আসরে ৮৫তম মিনিটের পর সবচেয়ে বেশি গোল করার নতুন রেকর্ড। এর আগে কোনো জাতীয় দলই বিশ্বকাপের একক আসরে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এত বেশি গোল করতে পারেনি।

আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে এবারের বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করে আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে একটি গোল করেছিলেন মেসি। পরের ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৯০+৫ মিনিটে শেষ গোলটি করেন তিনি। জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয়ী ম্যাচের শেষ গোলটি মেসি করেছিলেন ৮০তম মিনিটে।

তবে, শেষ মুহূর্তে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে জয় তুলে নেয়ার ঘটনা আর্জেন্টিনার ঘটেছে নকআউটের প্রতিটি ম্যাচেই। রাউন্ড অব-৩২ এ নতুন দল কেপ ভার্দের বিপক্ষে হারের রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছিল তারা। ২৯ মিনিটে মেসির গোলে এগিয়ে গেলেও ৫৯ মিনিটে তৈরি হয় সমতা। ১-১ ড্র, খেলা গড়িয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে। ৯২তম মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজ গোল করে লিড এনে দেন আর্জেন্টিনাকে। এরপর ১০৩তম মিনিটে আবারও সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। ১১১তম মিনিটে আত্মঘাতি গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা।

মিশরের বিপক্ষে নিশ্চিত হারের মুখে দাঁড়িয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে। এ সময় জ্বলে ওঠে মেসিরা। ৭৯ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, ৮৩ মিনিটে মেসি নিজে এবং ৯০+২ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে ফেরে আর্জেন্টাইনরা।

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও আর্জেন্টিনাকে কঠোর পরীক্ষা দিতে হয়েছে। শুরুতে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরে সুইসরা। এরপর অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে আরও ২টি গোল করে তারা ওঠে সেমিফাইনালে। শেষ চারের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পরিসংখ্যান তো সবারই জানা।

এই পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার মানসিক দৃঢ়তা ও শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাওয়ার মানসিকতারই প্রমাণ। ম্যাচ যতই কঠিন হোক, শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার কৌশলই এবার আলবিসেলেস্তেদের ইতিহাসের পাতায় নতুন এক রেকর্ড এনে দিয়েছে।

ফাইনালের আগে এই রেকর্ড নিঃসন্দেহে আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে, আর প্রতিপক্ষের জন্যও বার্তা স্পষ্ট—এই দলের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো লিডই নিরাপদ নয়।

আরআর/আইএইচএস