একটা আর্টিকেলে পড়েছিলাম নিচের সাতটি গুণ থাকলে নাকি নারীকে আদর্শ স্ত্রী বলে মনে করেন বেশির ভাগ পুরুষ। আসুন, জেনে নিই সেই সাতটি গুণ কী কী।

১. চরিত্র

২. সম্মান দেওয়া ও নেওয়ার ক্ষমতা

৩. স্নেহশীলতা

৪. বুদ্ধিমত্তা

৫. আত্মবিশ্বাস

৬. উচ্চাকাঙ্ক্ষা

৭. বিনয় ও ভদ্রতা।

চলুন, প্রতিটি গুণের আলোচনা এবং সমালোচনা করি…

চরিত্র: কোনো পুরুষ নিজে যদি চরিত্রহীন হন, তবুও তিনি নাকি মনে মনে একজন চরিত্রবান স্ত্রী আশা করেন। পুরুষের কাছে নারীদের চরিত্র ভালো হওয়াটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আসুন, এবার দেখা যাক চরিত্র জিনিসটা কী, সেটা একটু পোস্টমর্টেম করি।

বিবাহিত নারীদের চরিত্র খারাপ বলতে কী বুঝি। বিয়ের পর অন্য কোনো পুরুষের সাথে স্বামীর অনুমতি ছাড়া কথা বলা, দেখা করা, আড্ডা দেওয়া, হাসাহাসি করা অথবা সবকিছু ছাড়িয়ে প্রেমে পড়া এসব আরকি!

অনেক স্বামী আছেন যাঁরা স্ত্রীকে বাইরে কাজ করতে দিতে চান না। কারণ, তাঁদের ধারণা স্ত্রী বাইরে কাজ করলে অন্য পুরুষের সাথে সখ্য বেড়ে যাবে, এটা তারা মানতে পারবেন না। এমনকি পাশের বাড়ির রহিম-করিমের সাথে একটু হেসে কথা বলতে দেখলেও তাঁদের মনে হিংসার উদ্রেক হয়। এই বুঝি বউ খারাপ হয়ে গেল।

কিন্তু একটু ভালো করে খোঁজ নিয়ে দেখুন অসংখ্য স্বামী কাজের জায়গায় অন্য নারী সহকর্মীর সাথে ঠিকই একটা উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন।

কত কত শিক্ষিত মেয়ে ঘরে বেকার বসে আছে শুধু আদর্শ বউ হতে যেয়ে। স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোক চান না, তাই সেই সব মেয়েরা আত্মনির্ভরশীল হতে পারে না।

অথচ আধুনিক দৃষ্টিতে মনে করা হয়, চরিত্রহীন বলে নির্দিষ্ট কোনো শব্দ নেই। হাজবেন্ড রেখে অন্য কারও সাথে প্রেম করলে বা শারীরিক সম্পর্কে জড়ালে তাঁকে আপনি অসৎ বলতে পারেন, কিন্তু সরাসরি চরিত্রহীন বলা যায় না।

চরিত্র মানে নৈতিকতা, সততা, ভদ্রতা ও শিষ্টাচার। যে নারীরা সদর্পে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারে, মেরুদণ্ড সোজা রেখে সমাজের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে জানে, গৎবাঁধা নিয়মের বাইরে গিয়ে পরিবার এবং সমাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে, সেই নারীদের দমানোর জন্য এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তাঁদের চরিত্রহীন অপবাদ দিয়ে থাকে। তখন তারা নিরুপায় হয়ে নারীদের পর্দা এবং চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

তবে একজন নামমাত্র পর্দা করা নারীর চেয়ে একজন সৎ নারী আমার কাছে আদর্শ নারী বলে বিবেচিত।

এবার আমরা কথা বলব একজন আদর্শ স্ত্রীর সম্মান দেওয়া এবং নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে।

যেকোনো পুরুষই তাঁর স্ত্রীর কাছে উপযুক্ত সম্মান আশা করেন। আশা করেন তাঁর স্ত্রী পরিবারের সবার সাথে চমৎকারভাবে মানিয়ে চলবে, বড়দের সম্মান করবে, তাদের দেখাশোনা করবে। মোটকথা সর্বগুণে গুণান্বিত হবে। যাতে সেই স্বামী তার স্ত্রীকে নিয়ে গর্ব করতে পারেন।

আমি বলছি না এ রকম আশা করা ভুল। কিন্তু একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন তো কয়টা হাজবেন্ড নিয়ম করে তাঁর স্ত্রীর বাবা–মায়ের খোঁজ নেন? সম্মান দিতে না জানলে কি সম্মান পাওয়া যায়?

একজন আদর্শ স্ত্রী মানে এই নয় সে তার হাজবেন্ডের পরিবারের সবার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেবে। আপনিও আপনার স্ত্রী এবং স্ত্রীর পরিবারকে সম্মান করুন। তাকে তার যথাযথ প্রাপ্য মর্যাদা দিন দেখবেন আপনার স্ত্রীও আপনার সব চাওয়া–পাওয়া অনায়াসে পূরণ করছে।

একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন স্ত্রীর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সম্মান, যেখানে ভালোবাসা একটুখানি কম হলেও চলে কিন্তু অসম্মান আজকালকার মেয়েরা মানতে পারে না।

একটা সময় ছিল যখন নারীরা বেশি লেখাপড়া করার সুযোগ পেত না, অল্প বয়সে তাদের বিয়ে হয়ে যেত। তাই পারিপার্শ্বিক এবং সামাজিক নানা প্রতিকূলতার সাথে তাদের লড়াই করে তারা সংসারটা টিকিয়ে রাখত। শ্বশুর–শাশুড়ির অত্যাচার, স্বামীর অবহেলা—সবই তারা মুখ বুজে সহ্য করে নিত। শুধু সংসারটা করবে বলে।

স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই পুরুষ মানুষ একাধিক বিয়ে করে ঘরে বউ নিয়ে আসত। সেই সময় একজন অসহায় স্ত্রী কীই–বা করতে পারত! বাবা–মার কাছে গেলেও তারা বলতেন, পুরুষ মানুষ একটু–আধটু এমন–সেমন হয়, তাই বলে নারীদের জিদ করলে চলে না। মেনে নাও, পোলাপানের মুখের দিকে তাকিয়ে সবকিছু

তখনকার দিনে নারীরা তাদের স্বামীদের মুখের ওপর কোনো প্রতিবাদ তো দূরের কথা কোনো কথাই বলতে পারত না, তাদের বলা হতো মাইয়া মানুষ। কাজেই মাইয়া মানুষের এত কথা কিসের? সংসারে কথা বলবে শুধু পুরুষ মানুষ।

আর যেসব নারী নিজেদের মাইয়া মানুষ বলে মেনে নিয়ে নীরবে শাড়ির আঁচলে চোখের পানি মুছত, তারাই হতো আদর্শ স্ত্রী?

কিন্তু সময় অনেক বদলে গেছে। শুধু বদলায়নি বর্তমানেও কিছু কিছু পুরুষের মন–মানসিকতা।

এখনো এমন পুরুষ আমাদের সমাজে আছে, যারা শিক্ষিত নামধারী হয়েও অশিক্ষিতের মতো আচরণ করতে পারে নির্দ্বিধায় তাদের স্ত্রীদের সাথে। অবলীলায় বলতে পারে, এই সংসারে কথা বলার তুমি কেউ নও, পারিবারিক যেকোনো জটিলতায় কথা বলবে কেবল সেই স্বামী নামক লোকটার নিজের পরিবারের মানুষগুলো। এখানে স্ত্রী অর্বাচীন। হায় আদর্শ, হায় নারী!

এখনো আমাদের সমাজে পুরুষেরা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছে, যা তাদের খেয়ালখুশিমতো। আগে নারীরা প্রতিবাদ করতে পারত না, কিন্তু এখন আর মেয়েরা মুখ বুজে মার খেতে রাজি নয়। তারা এখন প্রতিবাদ করতে পারে, রুখে দাঁড়াতে জানে, এমনকি এই সব নারী লোভী স্বামীদের ছেড়ে যেতেও তারা দ্বিধা বোধ করে না। কারণ, এখন তারা স্বনির্ভর।

কাজেই কাকে অসম্মান করে কথা বলছেন, তা একবার ভেবে দেখুন। বিয়ের সময় একজন বুদ্ধিমতী, সুন্দরী এবং ব্যক্তিত্বসম্পন্ন আত্মমর্যাদাবোধ আছে এমন মেয়ে খুঁজবেন, আর নিজের মতো তাকে ব্যবহার করতে চাইবেন, তাই কি হয়? এখন সময় তাদের!

আসলে কি জানেন, সময়ের তাগিদে পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেছে, সেই সাথে এগিয়েছে নারীর চিন্তাচেতনা, আর্থসামাজিক অবস্থা, কিন্তু আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষদের মানসিকতার খুব একটা উন্নতি হয়নি।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: [email protected]

কিন্তু আমার কথা, আমি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হই বা না হই, কেন প্রিয়তম স্বামী যাকে মেয়েরা সবকিছু ছেড়ে গ্রহণ করে, সেই মানুষটা তাকে ছোট করবে, অবহেলা করবে?

চলুন, দেখি স্নেহশীলতা বলতে কী বোঝানো হয়েছে।

রুক্ষ মেজাজের নারীকে নাকি কোনো পুরুষই পছন্দ করে না। খুব স্বাভাবিক। সারা দিন পর ঘরে ফিরে যদি দেখেন বউ গোমড়া মুখ করে বসে আছে, তাহলে কি ভালো লাগবে? অধিকাংশ পুরুষ মানুষই হাসিখুশি নারী পছন্দ করেন।

আমরা স্বাভাবিকভাবে ধরেই নিই নারী মানেই মমতাময়ী, স্নেহশীল, কোমল এবং ধৈর্যশীল হবে। কিন্তু একজন নারীর ও যে রাগ থাকতে পারে, অভিমান হতে পারে, তা অনেক পুরুষ মানুষ বুঝতেই চান না। মানুষের কোমলতা এবং সহনশীলতা দুটো কারণে নষ্ট হয় অন্তত সংসারের ক্ষেত্রে।

এক. স্বামী যদি চরিত্রহীন বা পরনারীতে আসক্ত হন।

দুই. সংসারে যদি মাত্রারিক্ত অভাব-অনটন থাকে।

তখন আপনা–আপনিই একজন নারী খিটমিটে এবং কর্কশ আচরণ করতে বাধ্য হয়। কিন্তু এসব প্রতিকূলতা মেনে নিয়ে আপনি যদি চোখ–মুখ বন্ধ করে সংসার করে যেতে পারেন, তাহলে আদর্শ স্ত্রীর পদচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা আপনার নেই।

আর যদি এসব মেনে নিতে না পেরে প্রতিবাদে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে আপনার কপালে শনি!

বুদ্ধিমত্তা

একটা সময় জানতাম পুরুষেরা স্ত্রী হিসেবে নাকি বোকা এবং সুন্দরী মেয়ে পছন্দ করে। কিন্তু এখন তারা সময়ের বিবর্তনে তাদের ডিমান্ড চেঞ্জ করেছে। বেশির ভাগ পুরুষই নাকি বুদ্ধিমতী বউ খোঁজে। জীবনসঙ্গী হিসেবে তারা স্মার্ট এবং তীক্ষ্ণ মেধাসম্পন্ন সহযোদ্ধা খোঁজে। আসলে দেরিতে হলেও অনেকে পুরুষ মানুষই উপলব্ধি করতে পেরেছে, বিয়ে মানে ঘরে শোপিসের মতো একটা বউ এনে সাজিয়ে রাখা নয়, বিয়ে মানে এমন একজন মানুষকে পাশে পাওয়া, যার সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়া যায় জীবনের সব টানাপোড়েন, সুখ–দুঃখ এবং আনন্দ–বেদনা।

কিন্তু এই সমাজে ক্ষমতাধর পুরুষের সংখ্যাই বেশি। সে হোক শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত। অশিক্ষিত মানুষের খারাপ আচরণটা সবার চোখে পড়ে, কারণ সে নিয়ম করে বউ পেটায়, কিন্তু যে পুরুষ নীরবে–নিভৃতে মানসিকভাবে নির্যাতন করে, তাকে বুঝবেন কীভাবে?

কাজেই নারীদের বিয়ের চেয়েও বেশি জরুরি আগে স্বাবলম্বী হওয়া, নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখা। বুদ্ধিদীপ্ত মেধাবী মেয়েরা একা হয় না। তারা হয় সমাজের আলো।

আত্মবিশ্বাস

জীবনে আত্মবিশ্বাসী হওয়াটা খুব জরুরা। যেকেনো লক্ষ্য অর্জনে, যেকোনো সমালোচনা বা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার মূল মন্ত্রই হলো আত্মবিশ্বাস। একজন আত্মবিশ্বাসী নারী ঘরে এবং বাইরে দক্ষতার সাথে ব্যালান্স রেখে সবকিছু সামলাতে পারে।

একটা সময় পুরুষ নারীদের এই মহান গুণটাকে গুরুত্ব না দিলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসে তারা বেশ ভালো ভাবেই উপলব্ধি করতে পারছে যে একজন আত্মবিশ্বাসী জীবনসঙ্গীর সঠিক সিদ্ধান্ত এবং মতামত তাদের চলার পথকে অনেক সহজ এবং মসৃণ করে দেয়।

কিন্তু অনেক পরিবার মেয়েদের এই আত্মবিশ্বাসকে, দৃঢ়তাকে নেতিবাচকভাবে দেখে থাকে। তারা এই নারীদের কথায় কথায় অপমান করতে পছন্দ করে।

যত বাধাই আসুক আত্মবিশ্বাস অটুট থাকলে নারী কখনো পিছিয়ে পড়বে না। নাই বা হলো আদর্শ বধূ।

উচ্চাকাঙ্ক্ষা

উচ্চাকাঙ্ক্ষা শব্দটাকে আমরা মূলত নেগেটিভ অর্থে ভেবে থাকি। আসলে উচ্চাকাঙ্ক্ষা বলতে কেবল টাকাপয়সা, ধনসম্পদ বা ক্যারিয়ার বোঝায় না। সত্যিকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা মানুষের মস্তিষ্ককে সমৃদ্ধ করে। নতুন কিছু জানতে চাওয়া, নতুন পরিবেশে মানিয়ে চলা, জীবনের সব বিষাদ ভুলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া, এসব যারা পারে তারা জীবনে সফল। সফলতা মানে কেবল ভালো চাকরি আর টাকাপয়সা নয়। সফলতা মানে আত্মতৃপ্তি, আত্মসন্তুষ্টি।

কথায় আছে,

মানুষ মরে গেলে পচে যায়

বেঁচে থাকলে বদলায়

সকালে–বিকেলে বদলায়

কারণে–অকারণে বদলায়।

কারণ, তার চারপাশের পৃথিবী নিত্যনতুন বদলাচ্ছে। এই বদলের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা, সেটাকেই বলে উচ্চাকাঙ্ক্ষা, যা আজকালকার নারীদের মধ্যে প্রবলভাবে বিদ্যমান।

বর্তমানে মেয়েরা শুধু ঘরকন্না আর সন্তান লালন–পালন করছে না, তারা প্লেন চালাচ্ছে, পাহাড়ের চূড়ায় উঠছে, সব ধরনের খেলাধুলায় চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে, এমনকি ব্যবসা–বাণিজ্যও সামলাচ্ছে জীবনসঙ্গীর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। আর এমন সাপোর্টিভ সঙ্গী কে না চায় বলুন? অন্তত যেকোনো স্মার্ট এবং বুদ্ধিমান ছেলে তো এমন মেয়েকেই বউ হিসেবে চাইবে। আর এমন বউই আদর্শ বউ।

তবে যারা এখনো মধ্যযুগের অন্ধকারে নিমজ্জিত, তাদের কথা আলাদা।

বিনয়ী এবং ভদ্র আচরণ

সবার সাথে মিষ্টি ভাষায় কথা বলা, অন্যের চাওয়াকে প্রাধান্য দেওয়া, নিরহংকার থাকা, এমনকি পোশাক এবং সাজসজ্জায় শালীনতা বজায় রাখা, শুধু তা–ই নয়, যেকোনো উত্তেজনাময় পরিস্থিতিতেও নিজেকে সামলে রেখে ধৈর্যের পরীক্ষা দেওয়াই মূলত একজন নম্র–ভদ্র নারীর কাজ। সমাজ এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিনয়ী মেয়েদের সবাই একটু এগিয়ে রাখে। বিনয়ী নারী খুব সহজেই অন্যদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারে।

কিন্তু এসব আমার কাছে কখনো কখনো খুব অপ্রাসঙ্গিক বিষয় বলে মনে হয়। কেন আমাকে সবকিছু সহ্য করে মেনে নিয়ে বিনয়ী বা ভদ্র খেতাব পেতে হবে? এমন আদর্শ বউ হওয়ার কোনো দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। আগে আত্মসম্মান নীতিবোধ, তারপর ভদ্রতা। মুখোশ পরে অভিনয় করে ভালো হওয়ার মতো ভণ্ডামি আর নেই।

যা আপনার কাছে অনৈতিক এবং অসৎ বলে মনে হবে, তার বিরুদ্ধে কথা বলুন। বাড়ির বউ বলে কি আপনি কারও কেনা গোলাম? শিরদাঁড়া সোজা করে চলুন, তাতে যদি বিনয়ী খেতাব ছুটে বেয়াদব খেতাব পান, তাতে কিচ্ছু যাবে আসবে না। তবুও সত্যিটা বলা শিখুন।

কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কালজয়ী ‘নারী’ কবিতায় বলেছেন,

‘আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই।

বিশ্বের যা-কিছু মহান্‌ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর

অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

বিশ্বের যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি

অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।’

*লেখক: রোজিনা রাখী, রফিচার লেখক