অতিরিক্ত সময়ে গড়াল মিশর ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার রোমাঞ্চকর লড়াই। প্রথমার্ধে দুর্দান্ত খেলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি মিশর। উল্টো নিজেদের ভুলে করা এক আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। এর আগে খেলার প্রথমার্ধের ১৩তম মিনিটে ইমাম আশুরের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিশর। তবে বিরতির পর ফিরে ব্যবধান দ্বিগুণ করার একটি সোনালি সুযোগ নষ্ট করে আফ্রিকার এই দলটি। ম্যাচের ৪৬তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে আসা এক দুর্দান্ত থ্রু পাসে গোলরক্ষককে একেবারে একা পেয়ে যান ওমর মারমোশ। কিন্তু গোলের সামনে অবিশ্বাস্যভাবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তিনি, তার শটটি ডান পোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। নিশ্চিত গোল হাতছাড়া হওয়ার এই ধাক্কার পরপরই পাল্টা আক্রমণে ওঠে অস্ট্রেলিয়া। জ্যাকসন আরভাইনের ফ্লিক থেকে ব্যাক পোস্টে বল পেয়ে যান কনর মেটকাফ, তবে চাপে পড়ে তার হেডটি বাইরে চলে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই মাঠে একটি বড়সড় ধাক্কা খায় মিশরের রক্ষণভাগ। মেটকাফের সঙ্গে সংঘর্ষে মাঠে লুটিয়ে পড়েন ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। মাঠে থাকা চিকিৎসকদের মতে, তিনি কিছু সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। দ্রুত মাঠে স্ট্রেচার আনা হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা ও কনকাশন পরীক্ষা শেষে স্বস্তি ফেরে মিশর শিবিরে। সুস্থ বোধ করায় ৫০তম মিনিটে আবারও মাঠে ফেরার অনুমতি পান হানি। কিন্তু মাঠে ফেরার মাত্র পাঁচ মিনিট পরই ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের শিকার হন এই ডিফেন্ডার। ৫৫তম মিনিটে একটি সেট পিস থেকে ভেসে আসা বল ঠেকাতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজের জালেই জড়িয়ে দেন মোহাম্মদ হানি। এই আত্মঘাতী গোলের সুবাদে ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফেরে সকারুজরা। হানির এই আত্মঘাতী গোলের পর মুহূর্তেই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। প্রথমার্ধে চালকের আসনে থাকা মিশর তীব্র চাপে পড়ে, অন্যদিকে নতুন উদ্যমে আক্রমণ শুরু করে টনি পপোভিচের দল। অবশ্য বিরতির সময়ই একটি বাধ্যতামূলক পরিবর্তন আনতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে চোট পাওয়া জর্ডান বস আর মাঠে ফিরতে না পারায় তার বদলে কাই ট্রেউইনকে মাঠে নামান অস্ট্রেলিয়ান কোচ। তবে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়।
খেলাধুলা
আত্মঘাতী গোলে সমতায় অস্ট্রেলিয়া, অতিরিক্ত সময়ে গড়াল ম্যাচ

শেয়ার করুন







