বান্দরবান সদর হাসপাতালে এক কোটি টাকার ওষুধ কিনে জেলা পরিষদ থেকে চার কোটি টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ ওঠেছে সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে মঙ্গলবার যুগান্তরে ওষুধ যন্ত্রপাতি ক্রয়ে নয়ছয় শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিতপত্রে ৫ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বুধবার সকালে তদন্ত কমিটি সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করে কাজ শুরু করেছে। পার্বত্য জেলা পরিষদের তথ্যমতে, বান্দরবানের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন সদর হাসপাতালের জন্য ওষুধ কিনে পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে চার কোটি টাকার বিল উত্তোলন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, বান্দরবান সদর হাসপাতালের ওষুধসহ কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও মালামাল সরবরাহের ছয়টি ভাগে প্রায় ৪ কোটি টাকার টেন্ডার আহবান করা হয়। তবে দরপত্রের গোপন মূল্যকোড পছন্দের ঠিকাদারদের সরবরাহ করে মালামাল সরবরাহের কাজগুলো ভাগিয়ে নিতে সহযোগিতা করেছে বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন হোসাইন চৌধুরীর সিন্ডিকেট। টেন্ডারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএসএম নামে ৫টি এবং আলমগীর নামে ১টি কাজ ভাগিয়ে নেন সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এ সিন্ডিকেটের সদস্যরা দরপত্র মূল্যায়ন কমিটিতে রয়েছেন। উল্লেখ্য, আহ্বানকৃত টেন্ডারে ওষুধ সরবরাহে স্বাস্থ্য বিভাগের অর্থায়নে ১ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকা, পার্বত্য পরিষদের অর্থায়নে ৩১ লাখ, যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৭৪ লাখ ১৮ হাজার, কেমিক্যাল ক্রয়ে ৮০ লাখ ৩৬ হাজার, বেন্ডেজ ক্রয়ে ১৮ লাখ ৫৪ হাজার, লিলেন ক্রয়ে ১২ লাখ ৩৬ হাজার এবং ফার্নিচার ক্রয়ে ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. আবুল মনসুর জানান, তদন্ত কার্যক্রম চলমান। আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। তখন বিস্তারিত জানানো হবে।