বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (এডি) পদ দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক চাকরি। বাংলাদেশ ব্যাংক পরীক্ষার সূচিপত্র এবং নম্বর বিভাজন প্রকাশ করেছে। এতে প্রিলিমিনারি ও লিখিত—উভয় পরীক্ষার সিলেবাস স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) তত্ত্বাবধানে হয়ে থাকে। ফলে প্রস্তুতির কৌশলও হতে হবে আইবিএর প্রশ্নধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১৭ জুলাই। এতে সফল হওয়ার প্রস্তুতি কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক সুমন সেন।
অনেক পরীক্ষার্থী শুধু বেশি বই পড়াকেই প্রস্তুতি মনে করেন। কিন্তু আইবিএর পরীক্ষায় সফল হতে হলে প্রয়োজন মূল বিষয়বস্তু বুঝে শেখা, বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনা এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে অনুশীলন। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় মোট ১০০ নম্বর। এখানে শুধু বেশি জানা যথেষ্ট নয়; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে প্রশ্ন সমাধান করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নিচে বিষয়ভিত্তিক বিস্তারিত পরামর্শ দেওয়া হলো।
ইংরেজি গ্রামার অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ (২০ নম্বর) আইবিএর ইংরেজি অংশ সাধারণ চাকরির পরীক্ষার তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। এই অংশে ভালো করতে হলে ভোকাবুলারির ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে এবং গ্রামার শুধু জানলেই হবে না, গভীরভাবে বুঝতে হবে।
ভোকাবুলারি (ওয়ার্ড স্মার্ট ১ম এবং ২য় এবং আইবিএ অ্যাডমিশন টেস্ট এবং ইবিএর নেওয়া গৃহীত চাকরির পরীক্ষায় আসা বিগত শব্দ)
সেন্টেন্স কমপ্লিশন (আইবিএর আগের সব সেন্টেন্স কমপ্লিশন প্রশ্ন ব্যাখ্যাসহ সমাধান করুন। এরপর ব্যারন্স স্যাট ২৩তম এডিশন, ক্র্যাকস্যাট এবং জিআরই বিগ বুক থেকে অনুশীলন করুন। সব পড়তে হবে এমন নয়, তবে যত বেশি অনুশীলন করবেন, তত দক্ষ হবেন)
গ্রামার (ক্লিফস টোয়েফল বইটি কয়েকবার ভালোভাবে পড়ুন। এরর ডিটেকশন অনুশীলনের জন্য ক্লিফস টোয়েফল ও ক্র্যাকস্যাটের সব প্র্যাকটিস সেট সম্পন্ন করতে পারলে উপকৃত হবেন। সেন্টেন্স কারেকশনের জন্য জিএমএটি অফিশিয়াল গাইড বেশ ভালো রিসোর্স। পাশাপাশি আইবিএর বিগত বছরের প্রশ্ন।)
ইডিয়ম অ্যান্ড ফ্রেজ [আইবিএর বিগত প্রশ্নগুলো ভালোভাবে দেখে যাবেন, এটা কমন পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার]
কারেক্ট/ইনকারেক্ট ইউজেইজ অব সাফিক্স–প্রিফিক্স (আইবিএর বিগত সালের প্রশ্ন দেখবেন)
কারেক্ট/ইনকারেক্ট ইউজেস অব ওয়ার্ডস (আইবিএর বিগত সালের প্রশ্ন দেখবেন)
বাংলা অংশে সাধারণত ব্যাকরণভিত্তিক প্রশ্ন বেশি আসে। এই অধ্যায়গুলো অবশ্যই বাজারের কোনো গাইড বই থেকে বিস্তারিত পড়তে হবে। যেমন বানান ও বাক্য শুদ্ধি, ধ্বনি, বর্ণ, ধ্বনি পরিবর্তন, সন্ধি, সমাস, পদ, কারক ও বিভক্তি, প্রকৃতি ও প্রত্যয়, বাক্য প্রকরণ, বাগধারা, এককথায় প্রকাশ, বিপরীত শব্দ, পারিভাষিক শব্দ, প্রবাদ-প্রবচন, শব্দার্থ ইত্যাদি। বাংলা সাহিত্যের জন্য খুব বেশি এফোর্ট না দিয়ে বিসিএস, ব্যাংক এবং অন্যান্য চাকরির পরীক্ষার বিগত সালে আসা প্রশ্নগুলো ব্যাখ্যাসহকারে পড়লেই যথেষ্ট হবে।
আইবিএ গণিতে মুখস্থ সূত্র নয়, কনসেপ্ট যাচাই করে। এই অধ্যায়গুলো আাগারওয়াল/মেন্টরস আইবিএ ম্যাথ বই থেকে অনুশীলন করলে উপকৃত হবেন। যেমন শতকরা, অনুপাত ও মিশ্রণ, লাভ ও ক্ষতি, অংশীদারি কারবার, গড় ও বয়স, সময় ও কাজ, সংখ্যা তত্ত্ব, বীজগণিত, ফাংশন ও ধারা, জ্যামিতি, পরিমিতি, সম্ভাব্যতা এবং বিন্যাস ও সমাবেশ। প্রতিটি অধ্যায়ের মৌলিক ধারণা স্পষ্ট করে প্রচুর প্রবলেম সলভিং করতে হবে।
এই অংশ আইবিএ পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি। নাম্বার সিরিজ, লেটার সিরিজ, কোডিং-ডিকোডিং, ক্রিটিক্যাল রিজনিং, পাজল, ডেটা সাফিশিয়েন্সি এবং লজিক্যাল ডিডাকশন। জিম্যাট ও জিআরইর সহজ ও মাঝারি মানের প্রশ্ন অনুশীলন করলে ভালো ফল
পাওয়া যাবে।
ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড ব্যাংকিং নলেজ (১০ নম্বর) যদিও নম্বর কম, কিন্তু এই অংশে ভালো স্কোর সহজে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। যেমন বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, অর্থের সময়মূল্য, আর্থিক বাজারসমূহ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও মুদ্রা, ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং সাম্প্রতিক ব্যাংকিং ঘটনাবলি।
প্রাথমিক ধারণাগুলো পরিষ্কার থাকলেই ভালো করা সম্ভব। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অধ্যায়ভিত্তিক ভালো কোনো বই থেকে পড়ে নেবেন এবং বিগত সালের ব্যাংক প্রশ্নগুলো ব্যাখ্যাসহ পড়বেন।
যেমন কম্পিউটারের মৌলিক বিষয়াবলি, মাইক্রোসফট অফিস ও এক্সেল সফটওয়্যার, ইন্টারনেট, নেটওয়ার্কিং, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটাবেইস, ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মৌলিক ধারণা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ শুধু একটি চাকরি নয়; এটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি বাস্তবায়ন ও আর্থিক খাত পরিচালনায় অবদান রাখার সুযোগ। তাই প্রস্তুতিও হওয়া উচিত লক্ষ্যভিত্তিক, বিশ্লেষণধর্মী এবং দীর্ঘমেয়াদি। যাঁরা সিলেবাসভিত্তিক পরিকল্পনা, নিয়মিত অনুশীলন এবং আইবিএর প্রশ্নধারা অনুসরণ করে প্রস্তুতি নেবেন, তাঁদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা নিঃসন্দেহে অনেক বেশি। মনে রাখতে হবে, এই পদের পরীক্ষায় সফলতা বেশি বই পড়ে নয়, বরং সঠিক বিষয় সঠিকভাবে আয়ত্ত এবং ধারাবাহিক অনুশীলনের মাধ্যমে।
গ্রন্থনা: আনিসুল ইসলাম নাঈম








