চলতি বছরের শুরুর দিকে সুপ্রিম কোর্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক শুল্কগুলো বাতিল করার পর, বিদেশি পণ্যের ওপর কর আরোপের বিকল্প পথ উন্মোচন করেছে তাঁর প্রশাসন। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ সহ ডজন ডজন বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন–এর প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে ইউরোপ, চীন, ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের মতো মার্কিন বাণিজ্যিক অংশীদাররা যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে এই নতুন শুল্কের মুখোমুখি হবে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) কার্যালয় থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত এই ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির ৯৯.৪ শতাংশ হয়।
এই সময়সীমাটি সুপ্রিম কোর্টে মামলায় হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্পের আরোপ করা ১০ শতাংশ সার্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়ের সঙ্গে মিলে গেছে। হোয়াইট হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সাথে এক ফোনালাপে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট তাঁর বাণিজ্য নীতি এবং সামগ্রিক উদ্দেশ্যকে শুধু এই কারণে নস্যাৎ হতে দেবেন না যে আদালত বা অন্য কিছুর মাধ্যমে একটি হাতিয়ার সীমিত হয়ে যেতে পারে।’
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রিটেন, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পণ্যের ওপর ১০ শুল্ক আরোপ করবে।
অন্যদিকে, ব্রাজিল তাদের পণ্যের ওপর ১২.৫% শুল্ক প্রত্যাখ্যান করে পারস্পরিক সমতার দাবি জানিয়েছে। তবে মেক্সিকোর অর্থমন্ত্রী এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, তারা কার্যকর শুল্কে বড় কোনো পরিবর্তন দেখছেন না।
যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রমের কথিত ব্যবহার এবং তা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের ব্যর্থতার বিষয়ে ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের কয়েক মাসব্যাপী এক তদন্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে জ্বালানি তেল ও গ্যাস এবং যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে পাওয়া সম্ভব নয়, সেগুলোকে এই শুল্ক থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যমান ১০ শতাংশ শুল্কের ওপর নতুন শুল্কের অতিরিক্ত স্তর চাপিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা এড়াতে এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা জানান, ব্যবসায়ী নেতারা শুল্কের বিষয়ে একটি স্থায়ী ও পূর্বাভাস পাওয়ার মতো কাঠামো খুঁজছিলেন। এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট ও উচ্চকণ্ঠে শুনেছি: মানুষ জানতে চায় তারা কত হারে শুল্ক দিতে যাচ্ছে। এখানে মূল বার্তাটি হলো—প্রেসিডেন্ট তাঁর বাণিজ্যিক লক্ষ্য অর্জনে সবসময় তাঁর হাতে থাকা হাতিয়ারগুলো ব্যবহার করবেন।’
উল্লেখ্য, জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ায় কিছু দেশ ১২ দশমিক ৫ হারের বদলে ১০ শতাংশ হারের যোগ্যতা অর্জন করেছে। তবে আক্রান্ত দেশগুলো দ্রুত এই প্রথা নির্মূল করবে বলে নিশ্চিত হতে পারছে না প্রশাসন, তাই তারা দীর্ঘমেয়াদে এই উচ্চতর শুল্ক বহাল রাখতে প্রস্তুত।
আমেরিকান ভোক্তাদের জন্য এই পরিবর্তনটি অবিলম্বে পণ্যমূল্য বাড়াবে না, কারণ আমদানিকারকরা আগে থেকেই এই শুল্ক দিয়ে আসছেন। তবে আগামীতে অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে।
১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্ট-এর ধারা ৩০১-এর অধীনে আরও কয়েকটি তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যার মধ্যে একটি হলো চীন, মেক্সিকো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অতিরিক্ত পণ্য উৎপাদন ক্ষমতার বিরুদ্ধে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা ধারা ৩০১-এর শুল্ককে আইনগতভাবে বেশি টেকসই মনে করেন, কারণ এটি আদালতে টিকে থাকতে সক্ষম এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য বহাল রাখা যায়।
এছাড়া, সীমান্ত কর বাড়াতে স্মুট-হাউলি ট্রেড অ্যাক্ট-এর একটি অব্যবহৃত ধারার অধীনে আগামী মাস থেকে কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকরের ঘোষণাও দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও সিএনএন








