সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেন পাকিস্তানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউএমটি), লাহোরের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম হাসান মুরাদ। সফরকালে তিনি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। বাংলাদেশ-পাকিস্তান শিক্ষা সহযোগিতা, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ, পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং ইউএমটির পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার সঙ্গে।
আজকের পত্রিকা: আপনি ইউএমটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট। এ বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জানতে চাই।
ইব্রাহিম হাসান মুরাদ: ইউএমটি পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় এবং অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। আমাদের ১ হাজার ১০০-এর বেশি পূর্ণকালীন শিক্ষক আছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৫০ জন বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়—যেমন অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, কলাম্বিয়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
আজকের পত্রিকা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কেন উচ্চশিক্ষার জন্য পাকিস্তানকে বেছে নিতে পারেন?
ইব্রাহিম হাসান মুরাদ: সাম্প্রতিক কিউএস ও টাইমস হায়ার এডুকেশন র্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। আমাদের অনেক শিক্ষক বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। আমাদের পাঠ্যক্রমও আন্তর্জাতিক মানের। ফলে যারা পাকিস্তানে পড়তে আসবে, তারা বিশ্বমানের শিক্ষা লাভ করবে।
আজকের পত্রিকা: পাকিস্তানে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনা ও বসবাস কতটা নিরাপদ?
ইব্রাহিম হাসান মুরাদ: পাকিস্তান সামগ্রিকভাবে একটি নিরাপদ দেশ। এটি জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম দেশ। ভূখণ্ডের আকারও বেশ বড়। সীমান্তবর্তী কিছু এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে দেশের অধিকাংশ এলাকাই নিরাপদ।
আজকের পত্রিকা: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার মোট ব্যয় কেমন হতে পারে? তারা কি পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু আয়ের জন্য কাজ করতে পারবে?
ইব্রাহিম হাসান মুরাদ: আমরা কিছু পূর্ণ স্কলারশিপ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। এই স্কলারশিপের আওতায় টিউশন ফি ও আবাসন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কিছু স্কলারশিপে মাসিক ভাতা (স্টাইপেন্ড) দেওয়া হবে। কিছু প্রোগ্রামের সম্পূর্ণ ব্যয়ই আমরা বহন করব।
আজকের পত্রিকা: এখন পর্যন্ত কতজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে?
ইব্রাহিম হাসান মুরাদ: প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ ডলারের একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করুক। এই তহবিলের মাধ্যমে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষার ব্যয় বহন করা সম্ভব হবে।
আজকের পত্রিকা: প্রস্তাবিত ১০ লাখ ডলারের শিক্ষা তহবিলে কারা অর্থ দেবে এবং এটি কে পরিচালনা করবে?
ইব্রাহিম হাসান মুরাদ: এটি সম্পূর্ণ আমাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ তহবিল। আমরা পাকিস্তানের অন্যতম বৃহৎ স্কলারশিপ কর্মসূচি পরিচালনা করি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ দিয়েছি। শরণার্থী, ১০ হাজার এতিম এবং ওআইসি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্যও আমাদের স্কলারশিপ রয়েছে।
আজকের পত্রিকা: পাকিস্তানের ইউএমটিতে এ পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছেন কি?
ইব্রাহিম হাসান মুরাদ: কিছুসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অতীতে ইউএমটিতে পড়াশোনা করেছেন। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে এবং ২০০০ সালের শুরুর দিকে ইউএমটিতে ৮-৯ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ছিলেন। গত বুধবারই তাঁদের নিয়ে একটি অ্যালামনাই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজকের পত্রিকা: জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০ এবং পাকিস্তানের ১৬৮। তাহলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কেন পাকিস্তানে পড়তে যাবেন?
ইব্রাহিম হাসান মুরাদ: আপনি যে সূচকের কথা বলছেন, তা কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের মান বা উচ্চশিক্ষার র্যাঙ্কিংয়ের সূচক নয়। পাকিস্তানের জনসংখ্যা ২৫ কোটির বেশি। তাই আমাদের চ্যালেঞ্জও অনেক বড়। তবে আমরা সেগুলো মোকাবিলা করছি। বাংলাদেশে গড় শিক্ষাবর্ষ প্রায় ১২ বছর, পাকিস্তানেও প্রায় ১২ বছর।
আজকের পত্রিকা: পাকিস্তান সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে শিক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। দেশটি কেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে চাইছে?
ইব্রাহিম হাসান মুরাদ: বাংলাদেশ একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। আমরা চাই দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হোক এবং দুই দেশের তরুণেরা একে অপরকে বন্ধু ও ভাই হিসেবে দেখুক। এ কারণেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।
আজকের পত্রিকা: আপনার বাংলাদেশ সফরের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে বলুন।
ইব্রাহিম হাসান মুরাদ: আমরা বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে। তিনি আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।








