বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের ধাক্কাতে ধাক্কাতে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছে ছাত্রদল। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাত্রশিবিরের ৮ থেকে ১০ জন নেতা-কর্মী অধ্যক্ষের কার্যালয়ে গিয়ে নানা অভিযোগ করেন।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে এসে শিবির কর্মীদের বের করে দেন। তাঁরা ধাক্কাতে ধাক্কাতে অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে ৮ থেকে ১০ গজ দূরত্বের মসজিদ গেটে নিয়ে যান। এ সময় কয়েকজন শিক্ষক নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও ছাত্রদল ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয় ছাত্রশিবিরকে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিএম কলেজের মুসলিম হল ও ডিগ্রি হলে শিবিরের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে গুপ্ত আখ্যা দিয়ে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন কক্ষে গিয়ে শিবিরের নেতা-কর্মীদের খোঁজাখুঁজি করেন কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। ছাত্রদল দাবি করেছিল, শিবির গুপ্ত হয়ে ক্যাম্পাসে নানা অপকর্ম করে।
এসব বিষয়ে কলেজ প্রশাসনকে অবহিত করতে আজ ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখার সভাপতি মো. নাহিদ আল হাসানের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। সেখানে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও হলের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলাকালে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি হয় বলে দাবি করেন শিবির নেতারা।
বিএম কলেজ ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. সাহেদ খান অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের কলেজ শাখার সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়ের অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে তাঁদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ান। এ সময় কয়েকজন নেতা-কর্মীকে ধাক্কা, কলার ধরে টেনে বের করে দেওয়া ও মারধর করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার সময় অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
তবে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়ের বলেন, মব সৃষ্টির জন্য ছাত্রশিবিরের ১৫-২০ জন অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে। এ খবর পেয়ে তাঁদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, শিবিরের নেতা-কর্মীরা এসেছিলেন ক্যাম্পাসের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে। এ সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে জড়ো হলে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয় এবং এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তাঁরা কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান। একপর্যায়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে শিক্ষকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেন।








