উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার আওতাবহির্ভূত এলাকায় ভবন নির্মাণে নকশা অনুমোদন, নির্মাণকাজের তদারকি এবং ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন (বিসি) কমিটি গঠন করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। ‘বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’-এর ধারা ১১ অনুযায়ী গঠিত এ কমিটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার বাইরে ভবন নির্মাণে নকশা অনুমোদন, নির্মাণকাজের প্রতিটি ধাপে গুণগত মান নিশ্চিত, ভবনের নিরাপত্তা তদারকি এবং সংশ্লিষ্টদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের কমিটির সভাপতি থাকবেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)। সদস্য হিসেবে থাকবেন পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও, পৌরসভার মেয়র, স্থাপত্য অধিদপ্তর ও নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে, উপজেলা পর্যায়ের কমিটির সভাপতি থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। সদস্য থাকবেন সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), পৌরসভার প্রতিনিধি (যদি থাকে), ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী। এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে- ভবনের স্থাপত্য, কাঠামোগত, বৈদ্যুতিক, মেকানিক্যাল ও প্লাম্বিং নকশা অনুমোদন, ভবনের ভারবহন ক্ষমতা যাচাই, 'বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি)-২০২০' অনুসারে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নির্মাণকাজে সেটব্যাক, সর্বোচ্চ গ্রাউন্ড কভারেজ (এমজিসি), ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর), অগ্নিনিরাপত্তা ও জ্বালানি সক্ষমতা বিবেচনা করা।
এছাড়া অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটলে কমিটি নির্মাণকাজ স্থগিত, অনুমোদন বাতিল এবং অবৈধ অংশ ভেঙে অপসারণের নির্দেশ দিতে পারবে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ভবনের অকুপেন্সি সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষমতাও থাকবে কমিটির।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কমিটিকে প্রতি মাসে অন্তত একটি সভা করতে হবে এবং প্রতি তিন মাস অন্তর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে কার্যক্রমের প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করে তাদের মতামতের ভিত্তিতেও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
নতুন ব্যবস্থায় উপজেলা পর্যায়ের কমিটি সর্বোচ্চ সাততলা ভবনের নকশা অনুমোদন করবে। এর বেশি উচ্চতার ভবনের নকশা অনুমোদনের দায়িত্ব থাকবে জেলা পর্যায়ের কমিটির ওপর।
আরএমএম/এমএএইচ/








