ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেপ্তার ও হয়রানি রোধে পুলিশ কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় ডেটা ব্যবস্থাপনা সিস্টেম থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সত্যতা যাচাই করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশনার বিষয়টি উল্লেখ করে সার্কুলার ইস্যু করতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ রায় দেন।
রায়ে আদালত বলেছেন, যেকোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের যে বিধিবিধান রয়েছে, তা অনুসরণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। নতুবা আইনের ব্যত্যয় হবে। অন্যদিকে ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেপ্তার হলে একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন হয়, যেটা নিশ্চিত করা সব শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।
ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মাধ্যমে ওয়ারেন্ট দেখিয়ে বিরোধীপক্ষকে গ্রেপ্তার ও হয়রানির বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে ২০১৩ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে ওই রিটটি করা হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৩০ জানুয়ারি রুল দেন আদালত। পাশাপাশি আরিফ নিয়াজী নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে গুলশান থানার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন। রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে সোমবার রায় দেওয়া হয়।
আদালতে রিট আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও সঞ্জয় মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ গণমাধ্যমকে বলেন, “সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা যদি ডেটা ব্যবস্থাপনা সিস্টেম থেকে সংশ্লিষ্ট আসামির প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সত্যতা যাচাই না করেন এবং যে পরোয়ানার মাধ্যমে আসামি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, পরে তা ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হলে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে বলে রায়ে এসেছে।”






