বিশ্বকাপ মানেই শুধু ফাইনাল নয়। শেষ বাঁশি বাজার আগেও থাকে আরেকটি লড়াই সেটা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। অনেকেই এই ম্যাচকে গুরুত্বহীন মনে করেন। একজন সাবেক ফুটবলার হিসাবে আমি বলব, এই ম্যাচের মূল্য অনেক। কারণ বিশ্বকাপ শেষ করার আগে একটি জয় দলকে আত্মবিশ্বাস দেয়। সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটায় এবং খেলোয়াড়দের মনে রেখে যায় সুখস্মৃতি। ইংল্যান্ড এই ম্যাচে জয় পেয়ে তৃতীয় হয়েছে। আর শেষ ম্যাচে দুই গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পে বিশ্বকাপে গোলের সংখ্যা নিয়ে গেছেন দশে।
এবারের বিশ্বকাপ থেকে জয়ের আনন্দ নিয়েই বিদায় নিয়েছে ইংল্যান্ড। গোলের বন্যা বইয়ে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে টমাস টুখেলের দল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এমন রোমাঞ্চকর স্কোরলাইন খুব কমই দেখা গেছে। দুদলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। রক্ষণ নিয়ে খুব বেশি ভাবেনি। ফলে দর্শক পেয়েছে নিখাদ বিনোদন। ইংল্যান্ডের এই জয় তাদের জন্য শুধু একটি পদক নয় বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তাও। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের কষ্ট ছিল। সেই হতাশা ঝেড়ে ফেলে যেভাবে দলটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে সেটি প্রশংসার দাবি রাখে। বিশ্বকাপে ভালো ফুটবল খেলেও শিরোপা না পাওয়ার আক্ষেপ তাদের থাকবেই। তবে শেষ ম্যাচে এমন জয় আগামী দিনের পথচলায় নিশ্চয়ই আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
এদিকে হারলেও ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কিলিয়ান এমবাপ্পে এই ম্যাচেও দুটি গোল করেছেন। সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০। এমন ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে বড় মঞ্চে তিনি এখনো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর খেলোয়াড়দের একজন। দল ট্রফি না পেলেও এমবাপ্পে নিজের সামর্থ্যরে আরেকটি উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে গেলেন। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি দলীয় ফুটবলেরও দারুণ প্রদর্শনী দেখেছি। ছোট দলগুলোর সাহসী লড়াই, নতুন তারকাদের উত্থান এবং কৌশলগত লড়াই সব মিলিয়ে এই আসর ছিল ব্যতিক্রমী। আবার চার বছরের অপেক্ষা।
কাল রাতে ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও স্পেন। বিশ্বকাপে এমন ফাইনালই আমরা দেখতে চেয়েছিলাম। দুটি দলই নিজেদের যোগ্যতায় ফাইনালে উঠেছে। বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু অসাধারণ কিছু মুহূর্ত, কিছু গোল, কিছু কান্না আর উল্লাস ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে অনেক দিন বেঁচে থাকবে। সেটিই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য।








