ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার (৩০) জামিন পেয়েছেন। আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুনানি শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালত তাঁকে জামিন দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক পিএসএম মোস্তাছিনুর রহমান। তিনি দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, আজ সাথী আক্তারকে আদালতে হাজির করার ধার্য তারিখ ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর পক্ষে আইনজীবী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ শুনানিতে অংশ নেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে ৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিন দেন। দুপুরেই তাঁকে আদালতের হাজতখানা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা সাথীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়।

সাথী আক্তার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে ‘সাথী বিউটি পার্লার’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলীর মেয়ে।

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, সাথী আক্তারের আইনজীবী স্থানীয় লোকজন সাথী আক্তারের প্রতিষ্ঠানের সামনে জড়ো হলে পুলিশ তাঁকেই গ্রেপ্তার করে। অথচ তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যাঁরা তাঁর ওপর চড়াও হয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া পুলিশের দায়িত্ব ছিল।

গত রোববার বেলা দুইটার দিকে ‘সাথী মেকওভার’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ করেন সাথী আক্তার। ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড ও ৮ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ভিডিও দুটিতে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়।

ফেসবুক লাইভে ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী’ বলা নারীকে গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ

এদিকে ওইদিনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাথী আক্তারের আইনজীবী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় লোকজন সাথী আক্তারের প্রতিষ্ঠানের সামনে জড়ো হলে পুলিশ তাঁকেই গ্রেপ্তার করে। অথচ তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যাঁরা তাঁর ওপর চড়াও হয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া পুলিশের দায়িত্ব ছিল।

মাহতাব উদ্দিন বলেন, ‘আদালতে শুনানির সময় আমরা বলেছি, পুলিশের ফরওয়ার্ডিংয়ে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই—যাতে বোঝা যায়, সাথী কোনো আমলযোগ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত কিংবা তাঁর দ্বারা এমন অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা আছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাঁকে ৫০০ টাকার বন্ডে নিজ জিম্মায় জামিন দিয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য রয়েছে।’

এই আইনজীবীর মতে , সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা স্বীকৃত। সাথী তাঁর মতামত প্রকাশ করেছেন। এ কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা অনুচিত হয়েছে।

লাইভে ‘বিএনপিকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী’ বলে ক্ষোভের মুখে নারী ব্যবসায়ী, থানায় নিল পুলিশ

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাথীকে গ্রেপ্তার: পুলিশ

এদিকে পুলিশ বলেছে, সরকারবিরোধী বক্তব্য বা মতপ্রকাশের কারণে নয়, বরং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

আজ বুধবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান এ–সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠান।

এতে বলা হয়, গত ২৫ অক্টোবর সম্ভাব্য অপরাধ প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা অনুযায়ী সাথী আক্তারকে প্রতিরোধমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে গত সোমবার তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আজ দুপুরে তিনি আদালত থেকে জামিন পেয়ে মুক্তি পেয়েছেন।

পুলিশ সুপার জানান, জনসাধারণকে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বা গুজব প্রচার না করার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।