বিএনপির দলীয় সমর্থনের বাইরে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) সমর্থন দেওয়া ও দলীয় পতাকা ব্যবহারকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দল তো এনসিপিকে সমর্থন দেয়নি। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল নির্বাচনে তাদের সমর্থন দিয়েছে। দলের পতাকা লাগিয়ে যারা এনসিপির নির্বাচন করছে, তাদের বিএনপি করার কোনো অধিকার নেই।’

আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা কলেজের সাবেক ভিপি, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত আব্দুল আউয়াল খানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘প্রয়াত আ. আউয়াল খান স্মৃতি সংসদ’ এ সভার আয়োজন করে।

প্রয়াত এই নেতার ত্যাগ স্মরণ করে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, আব্দুল আউয়াল খান পরিবার নিয়ে কখনো ভাবেননি, রাজনীতিই ছিল তাঁর প্রধান ধ্যানজ্ঞান। এমনকি করোনাকালে আতঙ্কের সময়েও তিনি ঘরে বসে না থেকে দলের জন্য কাজ করে গেছেন। দল তাঁর ত্যাগের মূল্যায়ন পুরোপুরি করতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বিষয়টিকে দুর্ভাগ্যজনক হিসেবে আখ্যা দেন।

দলীয় কোন্দল ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিয়ে নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি পুনর্গঠনে তিন মাসের সময় নেওয়া হয়েছে। অন্য কোনো সংগঠনের ধারায় বিএনপি চলবে না উল্লেখ করে তিনি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে দেবিদ্বার উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে সেলিম ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে কাদা-ছোড়াছুড়ি করলে প্রতিপক্ষ সুবিধা পাবে। কাদা-ছোড়াছুড়ি না করে দলের জন্য কাজ করুন। আপনারা ব্যর্থ হলে বিএনপির পতাকাতলে থেকে যারা এনসিপির নির্বাচন করছে, তারা সুযোগ নেবে।’ এ সময় নেতৃত্ব কেনাবেচার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, টাকা দিয়ে নেতৃত্বের পদ নেওয়া হলে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পদ বাতিল করা হবে।

দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও যুবদল নেতা আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন তিতুমীর কলেজের সাবেক ভিপি এম এ আউয়াল খান।

স্মরণসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির সহযুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী। এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য একরামুল হক বিপ্লব, আইনজীবী রফিক শিকদার, ওমর ফারুক সাফিন, সালাহউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন, আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম, রেজভিউল আহসান মুন্সী, সুফিয়া বেগম ও দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ।

সভায় প্রয়াত আউয়াল খানের ছেলে ও যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুজ্জামান খানসহ কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার আগে প্রয়াত এই বিএনপি নেতার রুহের মাগফিরাত কামনায় তাঁর নিজ গ্রামে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।