দেশে একসময় চকলেট মানেই ছিল বিদেশি ব্র্যান্ড কিংবা উপহার হিসেবে বিদেশ থেকে আসা কোনো দামি জিনিস। তবে দিন বদলেছে। মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মানে পরিবর্তনের ছোঁয়ায় চকলেট এখন আর কোনো বিলাসবহুল পণ্য নয়; বরং তা রূপ নিয়েছে দৈনন্দিন জীবনের এক সাশ্রয়ী ও আনন্দদায়ক অনুষঙ্গে।
সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে শুধু চকলেটের বার্ষিক বাজারের আকার দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার কোটি টাকায়। এটি দেশের মোট কনফেকশনারি শিল্পের প্রায় ৪০ শতাংশ। প্রতিবছর এই বাজার ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে বড় হচ্ছে।
চকলেটের এই প্রবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ। প্রথমত, দেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে তরুণ ও কিশোর, যারা বৈশ্বিক ফুড ট্রেন্ড ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দারুণভাবে প্রভাবিত। এ ছাড়া চকলেট খাওয়ার অভ্যাসেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ঈদ বা বড় কোনো উৎসবের বাইরেও এখন জন্মদিন, ভালোবাসা দিবস, বন্ধুদের আড্ডা, কিংবা নিজের ভালো লাগার যেকোনো মুহূর্তেও চকলেটের ব্যবহার বাড়ছে।
এক দশক আগেও দেশের চকলেটের বাজার ছিল মূলত আমদানিনির্ভর; কিন্তু বর্তমানে স্থানীয় কোম্পানিগুলো বিশ্বমানের উৎপাদনব্যবস্থা নিশ্চিত করে বাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। বিশেষ করে ৫ থেকে ২০ টাকার ছোট প্যাক সাইজ বা এসকেইউ বাজারে আসায় চকলেট এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মুদিদোকানেও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে।
এই দেশীয় চকলেট–বিপ্লবের অন্যতম অগ্রগামী নাম প্রাণ কনফেকশনারি। সব বয়সী ও আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত পণ্য তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি দেশজুড়ে দারুণ বিশ্বস্ততা অর্জন করেছে।
বাজারের ভবিষ্যৎ ও নতুন পরিকল্পনা নিয়ে প্রাণ কনফেকশনারির বিপণন বিভাগের প্রধান সাখাওয়াত আহামেদ বলেন, বাংলাদেশের চকলেটের বাজার এখন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে। গ্রাহকেরা এখন কেবল সাধারণ চকোলেট খুঁজছেন না; বরং প্রিমিয়াম কোয়ালিটি, আকর্ষণীয় গিফটিং অপশন এবং বৈচিত্র্যময় স্বাদ আশা করছেন। গ্রাহকদের এই চাহিদা মাথায় রেখে প্রাণ প্রতিনিয়ত নতুন পণ্যের উদ্ভাবন ও পোর্টফোলিও সম্প্রসারণে বড় বিনিয়োগ করছে।
সাখাওয়াত আহামেদ আরও বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের চকোলেটের স্বাদ অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে দেশের সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়া। খুব শিগগির আমরা বাজারে বেশ কিছু নতুন প্রিমিয়াম ও ইনোভেটিভ চকোলেট পণ্য নিয়ে আসছি, যা স্থানীয় ভোক্তাদের চমৎকার এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে।’
বর্তমানে সুপারশপ, ই-কমার্স ও আধুনিক রিটেইল চেইনের প্রসারের কারণে চকলেট কেনা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর এই উদ্ভাবনী চেষ্টা ও শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থার ওপর ভর করে দেশের চকলেট–শিল্প ভবিষ্যতে আরও বড় সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সাখাওয়াত আহামেদ আরও বলেন, ‘বিশ্বের ৩৫টির বেশি দেশে বর্তমানে আমরা কনফেকশনারি পণ্য—চকলেট, ওয়েফার, ললিপপ, ক্যান্ডি, চুইংগাম দীর্ঘদিন যাবত রপ্তানি করে যাচ্ছি। নতুন বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ করতে প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নিচ্ছি। নতুন দেশের চাহিদা ও মান অনুযায়ী পণ্য নিয়ে ওই বাজারে প্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত আছে। একই সঙ্গে দেশের বাজারে প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের প্রতিযোগিতা করে আরও বাজার বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।’








