যুদ্ধবিরতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেক কমলেও বাংলাদেশে জুলাই মাসের জন্য সাধারণ জনগণের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের দাম কমানো হয়নি। অর্থাৎ পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল আগের দামেই থাকছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার হওয়া ফার্নেস অয়েলের দাম কিছুটা কমানো হয়েছে। প্রতিলিটার ১১৩ দশকি ৫৪ টাকা থেকে কমিয়ে ১০৯ দশমিক ১০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি। ফলে ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারপ্রতি কমেছে ৪ টাকা ৪৪ পয়সা। ফার্নেস অয়েলের এই দাম মঙ্গলবার রাত ১২টার পর কার্যকর হবে।

তবে পরিবহণের তেলের দাম কমায়নি সরকার। ডিজেল আগের দামে অর্থাৎ প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকায় বিক্রি করা হবে জুলাই মাসে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সময় জ্বালানি ব্রেন্ড ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। সেই দাম এখন নেমে এসেছে ব্যারেল প্রতি ৭৩ ডলারে, যা অনেকটা যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থার দাম। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও কেন বাংলাদেশে কমেনি এ নিয়ে অনেকে প্রশ্ন রেখেছেন। তারা বলছেন, তেলের দাম কমলে মুদ্রাস্ফীতি অনেক কমে আসত।

তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি জানিয়েছে, বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রির কারণে বিপিসির গত চার মাসে লোকসান হয়েছে ১৭ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি। এই লোকসান কতদিনে পুষিয়ে নেওয়া যাবে তা কেউ জানে না। কারণ বিপিসি এই লোকসান একেবারে নিজের তহবিল থেকে দিয়েছে। সরকার এক টাকাও ভর্তুকি দেয়নি। তাই এই মুহূর্তে তেলের দাম কমানো ঠিক হবে না বলে তারা সরকারকে জানিয়েছে। বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখনকার মতো কম থাকলে আগামী মাসে (আগস্টে) তেলের দাম সরকার কমাতে পারে।