একনায়ক সমর্থক : বাংলাদেশের অধিকাংশ সমর্থক সাধারণত এক নায়কে বিশ্বাসী। তারা চায় তাদের দলের নায়ক ফুটবল মাঠে একাই সব গোল করবে! মেসি কিংবা নেইমার এক ম্যাচে ৭ গোল একা করলেও এদের মন ভরে না। এমনকি তাদের প্রিয় একনায়ক দলের অন্য কেউ গোল করে ম্যাচ জেতালেও তাদের মন খারাপ থাকে।
ত্যাগী সমর্থক : এরা মূলত নির্দিষ্ট দেশের সমর্থক হন। সেই দেশ হারুক বা জিতুক এতে তাদের কিছু যায় আসে না। এরা ত্যাগী টাইপ সমর্থক, কারণ এরা জানে এদের দল বেশি দূর যাবে না, তবুও তারা এ দলের সাপোর্ট করেন, অনেকটা নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
ভাড়াটে সমর্থক : কিছু সমর্থক আছেন তারা যে দলের সাপোর্ট করেন, সেই দল পরাজিত হয়। ফলে এরা নিজেরা কষ্ট পেলেও এদের একটা আলাদা চাহিদা আছে। কারণ, যারা অন্য দলের পরাজয় কামনা করেন তারা এসব সমর্থকদের ভাড়া করে নিয়ে যান নিজেদের প্রতিপক্ষ দলকে হারানোর জন্য!
সমর্থকের সমর্থক : কিছু লোক আছে খেলার চেয়ে সেই দেশের দর্শকদের রূপ দেখে সমর্থক হয়। অর্থাৎ গ্যালারিতে যেসব দেশের সমর্থকরা সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়-এরা তাদের সমর্থক। এসব দর্শক মূলত প্রমীলা দর্শকের ভক্ত। এদের চোখ গ্যালারিতে সুন্দরী মেয়ে দর্শকের খোঁজে থাকে, সুন্দর খেলার নয়!
থার্ড পার্টি সমর্থক : আমাদের দেশে ফুটবল বিশ্বকাপের সমর্থক মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ছাড়াও কিছু সমর্থক আছে যারা সবসময় তৃতীয় শক্তির খোঁজে থাকে, ফলে এরা সবসময় একদলে থাকে না। এরা এ দুই দলের বাইরে শক্তিশালী দল খুঁজে বেড়ায়।
অনুসারী সমর্থক : এরা আসলে খুব ভালো ফলোয়ার। এদের নিজের কোনো পছন্দ নাই, এরা প্রেমিক বা প্রেমিকা কিংবা বউ অথবা জামাই এমনকি রাজনৈতিক নেতার পছন্দের দলকে সাপোর্ট করে। ফলে নেতা বা প্রেমিক-প্রেমিকা চেঞ্জ হলে এরাও দল চেঞ্জ করে।
সুবিধাবাদী সমর্থক : এরা মূলত হাওয়া বুঝে দল সমর্থন করে। মানে যে দল জিতে সে দলের সাপোর্টার। আপনার-আমার আশপাশেই এমন সমর্থকদের দেখতে পাবেন বিশ্বকাপ এলে। এরা জয়ী দলের সাপোর্ট করে কারণ এতে কোনো বাড়তি টেনশন করতে হয় না। লোকজন হারু পার্টি বলে খোঁচাতেও পারে না।
মৌসুমি সমর্থক : এরা মূলত সারা বছর ফুটবলের কোনো খবরই রাখে না। কিন্তু বিশ্বকাপ এলে খেলা নিয়ে এক মাস বেশ উত্তেজিত থাকে। খেলা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ করে, প্রতিপক্ষ দলের সঙ্গে খেলা নিয়ে ঝগড়াও করে। কিন্তু বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলে আবার চার বছরের জন্য ঘুমিয়ে পড়ে।








