বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে বড় পরিসরে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই অংশ হিসাবে বিসিবির কাছে তিন দফায় চিঠি পাঠিয়ে প্রায় ১০৫ ধরনের রেকর্ড ও নথিপত্র তলব করেছে সংস্থাটি। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গত ১ জুলাই দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান স্বাক্ষরিত তিনটি পৃথক চিঠিতে বিসিবি সভাপতিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব নথির সত্যায়িত কপি জমা দিতে বলা হয়েছে। দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, পাপন বিসিবির সভাপতি থাকাকালে সরকারি ও বোর্ডের অর্থের অপব্যবহার করে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে দেশে-বিদেশে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই বিপুল পরিমাণ নথি চাওয়া হয়েছে।
পূর্বাচল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম প্রকল্পে নজর : দুদকের চিঠিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পূর্বাচল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম প্রকল্পকে। কনসালট্যান্ট নিয়োগ থেকে শুরু করে ঠিকাদার নির্বাচন, টেন্ডার, ইওআই, টেকনিক্যাল ও ফাইন্যান্সিয়াল প্রস্তাব, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, কার্যাদেশ, চুক্তিপত্র, ব্যয় প্রাক্কলন, বিল পরিশোধ, ডিপিপি, বিদেশ থেকে আনা নির্মাণসামগ্রীর নথি এবং জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত সব কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে।
মিডিয়া রাইটস ও সম্প্রচার চুক্তিও তদন্তে : বিসিবির মিডিয়া রাইটস কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে কী প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়েছে, চুক্তিপত্র, নীতিমালা, দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সব নথিও চেয়েছে দুদক।
ব্যাংক হিসাব, এফডিআর ও আইসিসির অর্থের হিসাব তলব : ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত বিসিবির সব ব্যাংক হিসাব, পরিচালনাকারীদের নাম, স্বাক্ষরকারীদের তথ্য, এফডিআরে জমা রাখা অর্থের হিসাব এবং আইসিসি ও এসিসি থেকে পাওয়া অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্যও দিতে বলা হয়েছে।
বিপিএল, বিদেশি কোচ ও বিশেষ আয়োজনের ব্যয় : বঙ্গবন্ধু বিপিএল-২০১৯, ‘ক্রিকেট সেলিব্রেটস মুজিব-১০০’ আয়োজন, এ আর রহমানের কনসার্ট, বিদেশি কোচ নিয়োগ, কোচদের বেতন-ভাতা, বিপিএলের ব্যয়, লজিস্টিকস খরচসহ বিভিন্ন বিশেষ আয়োজনের সব আর্থিক নথি চাওয়া হয়েছে।
বিদেশ সফর, এটিএম কার্ড ও গাড়ি ব্যবহার : দুদক বিসিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ সফরের অনুমোদন, সফর ব্যয়, সভাপতি হিসাবে নাজমুল হাসান পাপনের বিদেশ সফরের তথ্য, বোর্ডের এটিএম কার্ড ব্যবহারের হিসাব, গাড়ি ব্যবহার, জ্বালানি খরচ, আতিথেয়তা ব্যয় এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ব্যয়ের রেকর্ডও তলব করেছে।
স্পন্সরশিপ, অনুদান ও সম্পদ : জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পন্সরশিপ ও প্রচারণা চুক্তি, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে দেওয়া অনুদানের তালিকা, বিসিবির জমি, ভবন, স্টেডিয়াম, ট্রেনিং সেন্টার, স্থাবর সম্পদ, উন্নয়ন প্রকল্প, টেন্ডার, অডিট রিপোর্ট, অডিট ফার্মের তথ্য এবং ক্রিকেট বল আমদানির নথিও চাওয়া হয়েছে।
পাপনের বিরুদ্ধে বিসিবিতে হওয়া অভিযোগও জমা দিতে হবে : পাপনের বিরুদ্ধে বিসিবিতে জমা হওয়া অনিয়ম, দুর্নীতি, ম্যাচ ফিক্সিং, টেস্ট স্ট্যাটাসসহ বিভিন্ন অভিযোগ, সেসব অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তার নথিও জমা দিতে বলা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, নথিপত্র বিশ্লেষণের পর প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।








