জুন মাসে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পাওয়ার অভিযোগের ঘটনায় কোনো বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দুর্নীতি বা অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং লোডশেডিং পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিদ্যুৎ বিভাগের মতবিনিময় ও পর্যালোচনা সভায় এ কথা বলেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ। বিদ্যুৎ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার, সারাদেশের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানির কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় জানানো হয়, সারাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহক জুন মাসে অতিরিক্ত বিল পেয়েছেন বলে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ উঠে এসেছে। এ বিষয়ে অস্বাভাবিক বিলের অভিযোগের কারণ উদঘাটন এবং সংশ্লিষ্ট বিতরণ কোম্পানিগুলোর বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি লোডশেডিং নিয়ে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং সোলার সিস্টেমে নেট মিটার স্থাপনের সর্বশেষ অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।
আরও পড়ুন
জুনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
বিদ্যুৎ সচিব জেলা প্রশাসকদের কাছে অতিরিক্ত বিল সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে কি না জানতে চাইলে তারা জানান, এ ধরনের উল্লেখযোগ্য অভিযোগ তারা পাননি।
সভায় বিদ্যুৎ সচিব বলেন, বিল সংক্রান্ত গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এরই মধ্যে সব বিতরণ সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। করণিক বা প্রযুক্তিগত কারণে কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে নিষ্পত্তি এবং গ্রাহকসেবার মান আরও উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেন।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত অভিযোগের দ্রুত সমাধানে গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থার কার্যালয় অথবা হটলাইনে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। হটলাইন নম্বরগুলো হলো: বিদ্যুৎ বিভাগ কেন্দ্রীয় সেবা ১৬৯৯৯, বিপিডিবি ১৬২০০, পল্লী বিদ্যুৎ ১৬৮৯৯, বিপিডিসি ১৬১১৬, ডেসকো ১৬১২০, নেসকো ১৬৬০৩ এবং ওজোপাডিকো ১৬১১৭।
এছাড়া সভায় জেলা পর্যায়ে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ চালুর অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। সভায় জানানো হয়, এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনার আলোকে কাজ করতে সব জেলা প্রশাসক প্রস্তুত রয়েছেন। জনদুর্ভোগ কমাতে তারা আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও আশ্বাস দেন।
আরএমএম/ইএ








