কুড়িগ্রামের দুর্গম চরাঞ্চলের ২৩ কিশোরীর জীবনে নতুন ভোরের সূচনা হয়েছে। কুসংস্কার আর দারিদ্র্যের চাপে যাদের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর হস্তক্ষেপে তারা এখন ফিরছে স্কুলের চেনা আঙিনায়। কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর ও রৌমারী উপজেলার ১৪টি দুর্গম চরে গত কয়েক মাসে এই ২৩টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে।ফ্রেন্ডশিপ সূত্র জানায়, নদীভাঙন প্রবণ ও দারিদ্র্যপীড়িত এসব চরে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে তারা ‘ইউনিয়ন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি’ ও ‘স্কুল ওয়াচ কমিটি’র মাধ্যমে কাজ করছে। সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১০৯ জন ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কিশোরীর একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যাদের পরিবার অভাব বা সামাজিক চাপে বিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে, তাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।যাত্রাপুর ইউনিয়নের খেয়ার আলগা চরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে একটি আইনি সহায়তা কেন্দ্র পরিচালনা করছে সংস্থাটি। এই কেন্দ্রের প্যারালিগ্যাল কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম জানান, চরের কোনো কিশোরীর বিয়ের খবর পেলেই তারা ছুটে যান। পরিবারকে বাল্যবিবাহের কুফল বুঝিয়ে বিয়ে বন্ধ করেন। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়।এই উদ্যোগের ফলে আদুরী আক্তার, স্বপ্না খাতুন, নিলুফা আক্তার ও মারুফা আক্তারের মতো ২৩ কিশোরী এখন আবারও পড়াশোনায় মন দিয়েছে। তাদেরই একজন বলেন, ‘বিয়ে হয়ে গেলে আমার জীবনটা সেখানেই থমকে যেত। এখন আমি বড় হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।’চরের বাসিন্দা মাহবুব আলম নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আগে হাইস্কুল দূরে থাকায় ভয়ে মেঝ মেয়েকে অষ্টম শ্রেণিতেই বিয়ে দিয়েছিলাম। এখন আইনি কেন্দ্রের উপদেশে ভুল বুঝতে পেরেছি। ছোট মেয়েকে শহরে পাঠিয়ে পড়াচ্ছি।’ফ্রেন্ডশিপের রিজিওনাল ম্যানেজার নাঈম কামরান বলেন, চরাঞ্চলে একসময় বাল্যবিবাহের হার ছিল উদ্বেগজনক। শিক্ষা ও আইনি সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ১৮টি পথনাটকের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করায় এখন পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও এখন এই কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
রাজনীতি
বিয়ের পিঁড়ি থেকে স্কুলে ফিরল ২৩ কিশোরী

শেয়ার করুন







