এশিয়া কাপে এবারের আসরের প্রথম ম্যাচ; প্রতিপক্ষও অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ ইন্দোনেশিয়া। তাই বাংলাদেশের সামনে বড় জয়ের প্রত্যাশাটা ছিল স্বাভাবিকই। শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত ফল মিলেছেও। তবে ৭১ রানের জয়ের রাতেও বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্নটা থেকেই গেল।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইন্দোনেশিয়াকে ৭১ রানে হারিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১২৯ রান করার পর ইন্দোনেশিয়াকে ১৭.৩ ওভারে মাত্র ৫৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য খুব একটা স্বস্তির ছিল না। নতুন বলে সুইং ও মুভমেন্ট দিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটারদের পরীক্ষা নেন ইন্দোনেশিয়ার পেসার নি মাদে পুত্রি সুয়ানদেউয়ি। তার বলে আলতো ড্রাইভ করতে গিয়ে ৮ রানে ফেরেন জুয়ায়রিয়া ফেরদৌস।
এরপর দিলারা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারির ব্যাটে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশ। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে রান তোলার গতি ছিল মন্থর। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ৩২ রান আসে, ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৮।
দ্বিতীয় উইকেটে ৪০ রানের জুটি গড়েন দিলারা ও সোবহানা। তবে ৩১ বলে ২৭ রান করে দিলারা ফিরলে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। অভিষিক্ত লেগ স্পিনার সোফিয়া ভেলিচের বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে খেলতে গিয়ে ১১ বলে ১০ রান করে ফেরেন তিনি।
সোবহানা অবশ্য একপ্রান্ত আগলে রাখেন। তবে বড় শট খেলার চেষ্টা করতে গিয়ে ফুলটস বলে সীমানায় ধরা পড়েন তিনি। ৪২ বলে ৪০ রান করে থামেন এই ব্যাটার।
এরপর বাংলাদেশের ইনিংসকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব কার্যত একাই কাঁধে তুলে নেন স্বর্ণা আক্তার। শেষ দিকে দ্রুত রান তুলে দলকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন তিনি। তিনটি চার ও একটি ছক্কায় মাত্র ১৮ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন স্বর্ণা।
বাংলাদেশের পরের পাঁচ ব্যাটার মিলে যেখানে যোগ করতে পেরেছেন মাত্র সাত রান, সেখানে স্বর্ণার ছোট্ট ঝড়েই ১৩০ রানের কাছাকাছি পৌঁছে যায় দল।
তবে ১২৯ রান নিয়েও বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে খুব একটা সংশয় ছিল না। আর বল হাতে সেটিই প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশের বোলাররা।
নতুন বলে ইন্দোনেশিয়ার ব্যাটিংয়ে প্রথম ধাক্কা দেন মারুফা আক্তার। এরপর নাহিদা আক্তারের স্পিনে আরও চাপে পড়ে এশিয়া কাপে অভিষিক্ত দলটি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৭.৩ ওভারে ৫৮ রানেই থামে ইন্দোনেশিয়ার ইনিংস।
ওপেনার মারিয়া কোরাজন সর্বোচ্চ ১২ রান করেন। দলের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল নাহিদা আক্তার। চার ওভারে ১৫ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি। মারুফা আক্তার ৬ রানে নেন দুই উইকেট। একটি করে উইকেট পেয়েছেন মেঘলা ও ফাহিমা খাতুন।
ব্যাটিংয়ে প্রত্যাশার পুরোটা মেটাতে না পারলেও বোলারদের দাপটে তাই স্বস্তির জয় দিয়েই এশিয়া কাপ শুরু হলো বাংলাদেশের। তবে সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। বি-গ্রুপে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে জয়টা তাই শুধু দুই পয়েন্টের নয়, পরের ম্যাচের আগে ব্যাটিংয়ের ঘাটতিগুলো শুধরে নেওয়ারও বার্তা দিয়ে গেল।








