‘বৃক্ষ শুধু রোপণ নয়, যত্ন নিয়ে বাঁচাতে হয়’ প্রতিপাদ্যে কয়েক ধাপে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ করেছে ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি ও তরুণদের মধ্যে পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, আশ্রম, নদীর তীর ও সড়কের পাশে এগুলো রোপণ করা হয়।

সব মিলিয়ে কর্মসূচির আওতায় ৫ হাজার ১৩০টি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ৪৮৩টি, লক্ষ্মীপুর হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০০টি, ঠাকুরগাঁও রিভার ভিউ উচ্চবিদ্যালয়ে ৮৩০টি, ইকো পাঠশালা অ্যান্ড কলেজে ১ হাজার ৩০টি, সালান্দর আলিয়া মাদ্রাসায় ৫১৩টি এবং আর কে স্টেট উচ্চবিদ্যালয়ে ৮৩০টি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া টিএমএস থেকে পাওয়া ১ হাজার ২৪৪টি গাছের চারাও বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মুন্সিপাড়া গোরস্থান মাদ্রাসা ও শ্রীশ্রী শ্মশান কালীমাতা মন্দির প্রাঙ্গণেও গাছের চারা রোপণ করা হয়। কচুবাড়ি-কৃষ্ণপুর এলাকায় টাঙ্গন নদের তীর ও সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা লাগানো হয়। একই সঙ্গে মাতৃশিশু ও বয়স্ক আশ্রমের প্রাঙ্গণেও বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।

রোপণ করা চারাগুলোর পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে চারাগুলো খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রঙিন জাল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মানুষ ও শিক্ষার্থীদের এসব গাছের পরিচর্যায় উৎসাহিত করা হচ্ছে। বন্ধুসভার সদস্যরা জানান, গাছ লাগানোর পর সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখাই তাঁদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শিহাব বলেন, ‘বৃক্ষরোপণ শুধু গাছ লাগানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি চারা রোপণের পর সেটিকে যত্ন নিয়ে বাঁচিয়ে রাখাই আমাদের মূল দায়িত্ব। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে তরুণদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে।’

ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘শুধু গাছের চারা রোপণ করেই দায়িত্ব শেষ, এমনটি ভাবলে চলবে না। রোপণ করা এসব চারা পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করাও আমাদের দায়িত্ব। এ কারণে গাছগুলোতে খুঁটি দেওয়া ও জাল দিয়ে ঘিরে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্ধুসভার সদস্যদের এসব গাছ নিয়মিত দেখভালের জন্য দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।’

মাসব্যাপী এ কর্মসূচির সমন্বয় করেন বন্ধুসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম ইবনে আলিফ, প্রচার সম্পাদক সিয়ামুর রশিদ ও বন্ধু নুসরাত নিশি। কর্মসূচিতে সহসভাপতি রাবিয়া সুলতানা, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মারুফ হাসান, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক ফারজানা উর্মি, বন্ধু পিংকি আক্তার, আল নাফিস চৌধুরী, মো. উজ্জ্বল, আনিসসহ বন্ধুসভার অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেন।