চলতি মাসে যখনই আবহাওয়া খারাপ হয়েছে, তখনই বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। বিশেষ করে কয়েকদিন টানা বৃষ্টি হলে প্রতি কেজি মরিচের দাম ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। আবার বৃষ্টি কমলে দামও কমে আসছে।

যেমন, টানা বৃষ্টির পর গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। পরে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে থাকায় দাম কমে ১২০ টাকায় নেমে আসে। তবে এখন আবারও বৃষ্টির কারণে বেড়েছে মরিচের দাম। রাজধানীর কোনো কোনো ছোট বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২৮০ টাকা দামেও বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের আড়তে দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা মরিচের পাইকারি ব্যবসা করেন বাছেদ মোল্লা। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে তিনি প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি করেন।

জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘দুদিন ধরে গ্রামগঞ্জে বৃষ্টি হচ্ছে, তাই বাজারও খারাপ। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার এক দফা দাম বেড়েছিল। এরপর কিছুটা কমে এখন আবারও বাড়ছে। কাঁচা মরিচ দ্রুত পচনশীল পণ্য। বৃষ্টির সঙ্গে এর দামও ওঠানামা করে। প্রতিদিনই বাজারে কমবেশি হয়।’

বাছেদ মোল্লা বলেন, ‘কাঁচা মরিচ দ্রুত পচনশীল পণ্য। ক্ষেতে কয়েকদিন বৃষ্টির পানি জমে থাকলেই মরিচ নষ্ট হয়ে যায়। এতে বাজারে সরবরাহ কমে যায়, ফলে দাম বেড়ে যায়।’

এদিকে, ঢাকার খুচরা বাজারে এখন প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২০০ টাকার নিচে মিলছে না। সেগুনবাগিচা বাজারে ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সেগুনবাগিচা বাজারের বিক্রেতা মুয়াজ্জিম বলেন, ‘দুদিন আগেও প্রতি পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচা মরিচ ৪০ টাকায় বিক্রি করেছি। সপ্তাহখানেক আগেও একবার দাম বেড়েছিল। তখন টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সবজির সরবরাহ কমে গিয়েছিল। এতে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি কাঁচা মরিচের দামও এক দফা বেড়ে যায়। পরে দাম কিছুটা কমলেও এখন আবার বৃষ্টি বাড়ায় মরিচের দাম বেড়েছে।’

এদিকে, বৃষ্টি ও বন্যায় দেশের বিভিন্ন এলাকার সবজিখেতে পানি জমে অনেক সবজি নষ্ট হয়েছে। ফলে বাজারে সবজির সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এরই মধ্যে দেশজুড়ে আবারও টানা পাঁচদিনের বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিও হচ্ছে।

এদিকে, টানা বৃষ্টির প্রভাবে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কারণে কয়েক দিন ধরে বাড়ছে সবজির দামও। প্রতি কেজি সবজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

বাজার ঘুরে জানা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন মান ও প্রকারভেদে তা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দলের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে।

এ ছাড়া, ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরের করলা এখন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরের বরবটির দাম বেড়ে ১০০ টাকা হয়েছে। তুলনামূলক কম দামের সবজির মধ্যে পেঁপে, ঢ্যাঁড়স ও পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দামও বাড়তি

অন্যদিকে, কিছুদিন ধরে স্থিতিশীল থাকা ফার্মের মুরগির ডিমের দামও এখন বেশ চড়া। ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হওয়া ফার্মের ডিম এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যখন বাজারে সবজির দাম চড়া থাকে তখন ভোক্তারা ডিমের ওপর নির্ভর করে। এ কারণে চাহিদা বেড়ে যায়। চাহিদা বাড়লে দামও বাড়ে।

এনএইচ/এমএএইচ/