ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় চট্টগ্রামের মানুষকে নিরাপদ রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। এ রোগ প্রতিরোধে সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ, সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) এবং বেসরকারি সংস্থা মেডিসিনস স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) নগরের লয়েল রোডে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরে ডেঙ্গু নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার বিষয়ক এক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এমএসএফের সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন

ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৩২৭

ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, চট্টগ্রামের মানুষকে নিরাপদ ও ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে আমরা প্রস্তুত। তবে শুধু সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এজন্য সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতি চারটি বাসাবাড়ির মধ্যে একটি বাড়িতে ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। গত জুন মাসে চট্টগ্রাম বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ৪০৫ জন, যা চলতি জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বেড়ে ৪৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ফুলের টব, পানির পাত্রসহ কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে। কারণ জমে থাকা পানিতেই এডিস মশা বংশবিস্তার করে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সচেতনতামূলক প্রচার বাড়াতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে এক নারীর মৃত্যু

সভায় চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলায় জুন মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ১২২ জন। জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত তা বেড়ে ১৬৪ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬১ জন, উপজেলা পর্যায়ে ৭৪ জন এবং অন্য জেলা থেকে আসা ২৯ জন রোগী রয়েছেন।

সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিআইটিআইডি, সিটি করপোরেশন, এমএসএফসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এডিস মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব।

এমআরএএইচ/ইএ