ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ছোট বোনকে পানিতে ডুবে যেতে দেখে উদ্ধার করতে নেমে প্রাণ হারিয়েছে বড় বোনও। রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের বীর পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো- রিয়ামনি (৮) ও ইলমা (৪)। তারা একই গ্রামের সুলতান মিয়ার মেয়ে। তাদের মধ্যে রিয়ামনি স্থানীয় বীর পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পর রিয়ামনি ছোট বোন ইলমাকে নিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে যায়। সেখানে খেলতে গিয়ে ইলমা কাদায় পড়ে যায়। পরে কাদা পরিষ্কার করতে পুকুরের পানিতে নামলে সে তলিয়ে যেতে থাকে। ছোট বোনকে বাঁচাতে রিয়ামনি পানিতে ঝাঁপ দিলেও সেও পানিতে ডুবে যায়।
ঘটনাটি আট বছর বয়সী আরেক শিশু সুমাইয়া দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের জানায়। খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে রিয়ামনিকে উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে নিখোঁজ ইলমাকে স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় খুঁজেও না পেয়ে প্রথমে ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযান চালিয়ে পুকুর থেকে ইলমার মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ডুবুরি দল নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
দুই সন্তানকে হারিয়ে মা নার্গিস শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বিলাপ করে তিনি বলেন, আমার বুকের ধন দুইটা পুকুরের পানিতে ডুবে মারা গেল। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব?
হোসাইন সুলভ/কেএইচকে








