জয়পুরহাটের কালাই পৌরশহরের কাজীপাড়া মহল্লায় সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে ৩০টি পরিবারের প্রায় দুই শতাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বাড়িঘরে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় দুপুর পর্যন্তও অনেক পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হতে পারেননি।

পানিবন্দি বাসিন্দা রজুফা বেগম বলেন, `দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে বাড়ির ভেতর হাঁটুসমান পানি। চুলায় পানি জমে থাকায় রান্নাও করতে পারিনি। পরিবারের সবাই না খেয়ে আছে।'

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি ড্রেনের মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি অপরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি নির্মাণ ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী বালা মিয়া বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের মেঝে পানিতে ডুবে যায়। ড্রেন বন্ধ থাকলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

আরেক বাসিন্দা ফারজানা বলেন, দিন দিন এ এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বৃষ্টির পানি, ময়লা-আবর্জনা ও জলাবদ্ধতা নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পৌরসভার একটি সরু ড্রেন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হতো। সম্প্রতি মহল্লার কয়েকজন বাসিন্দা ড্রেনটি তাদের ব্যক্তিগত জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে দাবি করে এর মুখ বন্ধ করে দেন। এরপর থেকেই জলাবদ্ধতা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

ড্রেন বন্ধের সঙ্গে জড়িতদের একজন ছফির উদ্দিন বলেন, জমির সীমানা না মেনে তাঁদের জায়গার ওপর ড্রেন নির্মাণ করায় তারা ড্রেনের মুখ বন্ধ করেছেন। অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণেই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

কালাই পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। একাধিকবার ড্রেন খুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও স্থানীয়দের বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। স্থায়ী সমাধানে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।