২২ আগস্ট ছিল সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের ফান্ড রেইজিং, লুক্সর ব্যানিকুয়েট হল, লস অ্যাঞ্জেলেসে। বরাবরের মতো ডা. রুবিনা নাজিব আপু আর ডা. নওরীন আপু জানালেন এ অনুষ্ঠানের কথা। স্কেজুল খুলে দেখি ওই দিনটা আমার ছুটি। ডা. শেলি আপাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপা, আমি তো যাচ্ছি। আপনি আর ভাইয়া (ডা. শহীদ ভাই) কি যাবেন? আপা আর ভাইয়াও যাবেন জানলাম। আমরা টিকিট করলাম।

সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের জন্যই আমার কিডনি বিশেষজ্ঞ মেন্টর ডা. গেস্ট ঢাকা গিয়েছেন। যাঁদের কিডনি কাজ করছে না, তাঁদের সহায়তায় ডায়ালাইসিস (কৃত্রিমভাবে শরীর থেকে দূষিত ইউরিয়া দূর করা, যেটা অকেজো কিডনি পারছে না) কীভাবে করা যায়, সেই সাহায্যে। অসম্ভব ভালো একজন মানবিক মানুষ, যিনি শুধু বাংলাদেশের বলেই ভীষণ স্নেহের চোখে দেখতেন আমাকে। এমনকি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে চাকরি করব, না কার্ডিওলজিতে ফেলোশিপ করব, সে সিদ্ধান্তও আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করে নিয়েছিলাম। (চোখে তখন স্টানফোর্ডে ফেলোশিপ করতে যাওয়ার স্বপ্ন ও সুযোগ, কিন্তু ছোট দুই বাচ্চা সঙ্গে। তাদের জন্য চাকরিতে যোগ দিলাম মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে, যেটা ছিল জীবনের শ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্ত)। তিনি বেঁচে নেই। তাঁর শেষ ই–মেইল শেয়ার করছি পাঠকদের সঙ্গে।

তাঁরা আগে আগেই গায়িকা ফাহমিদা নবী আপুর সঙ্গে ছবি তুলেছে। আমরা সেটা মিস করেছি। অনেক দিনের ভক্ত আমি আর নওশিন আপু ডিনার রেখে স্টেজের কাছে গেলাম তাঁকে দেখে। বললাম, আপু, আমরা আপনার সঙ্গে ছবি তুলতে চাই।

সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানে ফিরে যাই। সানডিয়েগো থেকে আমাদের মোটামুটি দুই ঘণ্টা সময় লাগল যেতে। কুশল বিনিময় করে কিছু ছবি তুলতেই অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেল। তাঁরা ২৭ জেলায় প্রতি সেশন ডায়ালাইসিস ২ হাজার ২০০ টাকা করে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, যেটা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মতো সাশ্রয়ী। বহু সেবামূলক কাজের মধ্যে আরও আছে আবাসিক নার্সিং স্কুল। স্বপ্নময়ী এক নার্সের পড়া এবং ট্রেনিং শেষে যোগ্য হয়ে এ ফাউন্ডেশনেই কাজে যোগ দিতে দেখলাম। নতুন সংযোজিত হচ্ছে এআই দিয়ে রেডিওলজি রিডিং, যা রোগ ডায়গনসিস করবে সহজে। দেখলাম, ডা. ঝিমলি আপু ডায়ালাইসিস মেশিন দান করেছেন, তার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

সুন্দর টেবিলে আমরা একসঙ্গে বসে তাঁদের কথাগুলো শুনলাম। ডা. রুবী আপা বহু সেবামূলক কাজের কর্ণধার। তাঁরা আগে আগেই বিশিষ্ট গায়িকা ফাহমিদা নবী আপুর সঙ্গে সবাই ছবি তুলেছে। আমরা সেটা মিস করেছি। অনেক দিনের ভক্ত আমি আর নওশিন আপু ডিনার রেখে স্টেজের কাছে গেলাম ওনাকে দেখে। বললাম, আপু, আমরা আপনার সঙ্গে ছবি তুলতে চাই। ফাউন্ডেশনের ডা. রুমি ভাই বললেন, না না, এমসি যাঁরা করেছেন, শুধু তাঁরা ছবি তুলতে পারবেন। এখন ছবি হবে না। ডা. নওরিন আপু আমার চেয়েও লাজুক। আমি ফাহমিদা আপুকে বললাম, আপু, আপনি আমাকে না চিনলেও আমার দুলাভাইকে চেনেন পেশেন্ট হিসেবে। তিনি নাম জানতে চাইলেন। তারপর মিষ্টি হেসে বললেন, কেন ওরা ছবি তুলবে না আমার সঙ্গে? অবশ্যই তুলবে। মুগ্ধ হয়ে সুন্দরী তমার সঙ্গে আমরা ছবি তুলেছি।

সফল হোক আপনাদের সব প্রচেষ্টা। অনেক হয়েছেও। তবু দেশের সেবায় আরও বহুদূর যেতে হবে তো। সানডিয়েগো শহরে সোনার বাংলা ফাউন্ডেশন আসছে এ মাসের ২৯ তারিখ। সবাই আসবেন, তাদের সম্পর্কে জানবেন আর দান করবেন দেশের মানুষের জন্য। অনেকেই কিছু করতে চান দেশের সেবায়। দারুণ একটা সুযোগ আমাদের সবার জন্য, হাতের মুঠোয়।

এরপর গান শুনলাম তাঁর। কী অপূর্ব সুরের মূর্ছনা। আমি মুগ্ধ। ডা. রুবী আপা হাত ধরে সামনের সারিতে বসালেন। গায়িকা ফাহমিদা নবী ডা. ইকবাল ভাইয়ের সঙ্গেও একটা গান গাইলেন সব শেষে। অল ইনক্লুসিভনেস শিখলাম। চমৎকার লাগল!

এরপর এলেন ফুয়াদ আর এলিটা করিম। অপূর্ব সব গান নিয়ে। কখন ২২ তারিখ পেরিয়ে ২৩ তারিখ সকাল হয়েছে জানি না।

ভীষণ আনন্দময় অনুভূতি নিয়ে আপা আর ভাইয়ার সঙ্গে বাসায় ফিরলাম রাত দুইটা–আড়াইটার দিকে। দেখি, কন্যা, মা জেগে আছে। তাদের কড়াকড়ি দেওয়ার চেষ্টা করি রাত দশটার মধ্যে বাসায় ফিরতে। আমাকে দেখেই সে মাথা নাড়ল, মা, তোমার জন্য আলাদা নিয়ম কেন? কিছু বলার জন্য মুখ খুলব। সে বলল, জানি জানি, ডা. গেস্টের সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলে। মানুষ হিসেবে কিছু ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে পারলে ক্ষতি কী, মা?

সফল হোক আপনাদের সব প্রচেষ্টা। অনেক হয়েছেও। তবু দেশের সেবায় আরও বহুদূর যেতে হবে তো। সানডিয়েগো শহরে সোনার বাংলা ফাউন্ডেশন আসছে এ মাসের ২৯ তারিখ। সবাই আসবেন, ওদের সম্পর্কে জানবেন আর দান করবেন দেশের মানুষের জন্য। অনেকেই কিছু করতে চান দেশের সেবায়। দারুণ একটা সুযোগ আমাদের সবার জন্য, হাতের মুঠোয়।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (ক্যালিফোর্নিয়া চাপ্টার) সবাইকে অনেক ধন্যবাদ এমন কিছু অর্গানাইজেশনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য। তাদের সঙ্গে ফ্রি হেলথ কেয়ার আপডেট নিয়ে আবারও যাচ্ছি সেপ্টেম্বর মাসের ৬ তারিখ দুপুরে লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]