কবি আল মুজাহিদীর সাহিত্য সম্পাদনার দক্ষতা ছিল অসামান্য। তিনি শুধু একজন কবি নন, ছিলেন নতুন লেখক সৃষ্টির এক নিরলস কারিগর। দীর্ঘদিন সাহিত্য সম্পাদনার মাধ্যমে অসংখ্য নবীন লেখককে পরিচিত করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর কাঁটাবনের পাঠক সমাবেশে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। স্মরণসভাটির আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষ্টি ও সংস্কৃতি কেন্দ্র। সাহিত্যচর্চায় আপসহীনতা, জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং সাহিত্যের প্রতি দায়বোধের জন্য তিনি দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে মনে করেন বক্তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাকির সবুর বলেন, ৩০ বছর ধরে আল মুজাহিদী ইত্তেফাকের সাহিত্য পাতা সম্পাদনা করেছেন। ওই সময়ে ইত্তেফাকের সাহিত্য পাতায় কারও লেখা প্রকাশিত হলে নিজেকে তারা লেখক হিসাবে ভাবতেন। শাকির সবুর বলেন, লেখা নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সচেতন ও বিচক্ষণ। তিনি নতুন লেখক খুঁজে বের করতে বিশেষ আগ্রহী ছিলেন এবং অনেক লেখককে সাহিত্যে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। শাকির সবুরের মতে, আল মুজাহিদী ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী চেতনার এক নিবেদিতপ্রাণ কবি।

কবি সালেম সুলেরী আল মুজাহিদীর সাহিত্যকর্ম ও ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রয়াত কবিকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধা কবিকে স্বাধীনতা পদক দেওয়ারও দাবি জানান। কবি আসাদ কাজল বলেন, আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার পরিবার এবং সাহিত্যাঙ্গন। তিনি সত্য, আবেগ ও ভালোবাসা থেকে যা বিশ্বাস করতেন, তাই লিখেছেন ও করেছেন।