বজ্রঝড়ের কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর শুরু হয় ম্যাচ। কিন্তু প্রকৃতির গর্জন পারেনি গ্যালারির গর্জন থামাতে। ৪০ বছরের অপেক্ষার অবসানের সাক্ষী হতে মাঠে আসা ৮০ হাজার ৮২৪ দর্শকের গগনবিদারী চিৎকারের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে একসময় শান্ত হয় প্রকৃতি। এরপর আজতেকার গ্যালারি আরও উত্তাল করে মাঠে ঝড় তোলে মেক্সিকো। ৩১ মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে ইকুয়েডরকে ‘নকআউট’ করে দেয় স্বাগতিকরা। এরপর আর গোল হয়নি ম্যাচে। প্রয়োজনও ছিল না। উৎসবের মঞ্চ রাঙিয়ে গোটা দেশকে আনন্দে ভাসিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলায় চলে গেল মেক্সিকো। বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে শেষ বত্রিশের দ্বৈরথে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে চার দশক ধরে বিশ্বকাপে নকআউট ম্যাচ জিততে না পারার ‘অভিশাপ’ থেকে মুক্ত হলো হাভিয়ের আগুইরের দল। ৪০ বছরের খরা কাটানো জয় উদযাপন করতে মেক্সিকো সিটির রাস্তায় নেমে আসে ১০ লাখের বেশি মানুষ। বাঁধনহারা উদযাপনে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এবারের বিশ্বকাপের আগে মেক্সিকো সবশেষ স্বাগতিক ছিল ১৯৮৬র আসরে। সেবার এই আজতেকা স্টেডিয়ামেই শেষ ষোলোয় বুলগেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল মেক্সিকো। বর্তমান কোচ আগুইরে ছিলেন সেই দলের খেলোয়াড়। পরের ৪০ বছরে আর কোনো নকআউট ম্যাচ জেতা হয়নি তাদের। অবশেষে সেই আজতেকাতেই মেক্সিকানদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলো। শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ড অথবা ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। দলের নিখুঁত পারফরম্যান্সে এখন বড় কিছুর স্বপ্ন দেখছে মেক্সিকো।
এবারের আসরের এখন পর্যন্ত চার ম্যাচের চারটিই তারা জিতেছে। চার ম্যাচে আট গোল করার বিপরীতে কোনো গোল হজম করেনি তারা।
মেক্সিকোর এমন অদম্য হয়ে ওঠার পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে তাদের সমর্থকদের। গ্যালারির গর্জন ও ‘মেক্সিকান ওয়েভ’ মাঠে খেলোয়াড়দের পুরো ৯০ মিনিট উজ্জীবিত রাখে। ইকুয়েডরের বিপক্ষে ২২ মিনিটে দারুণ এক গোলে মেক্সিকোকে এগিয়ে দেন উইঙ্গার হুলিয়ান কিনিয়োনেস। চলতি আসরে তার গোল হলো তিনটি। ৩১ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাউল হিমিনেজ। শেষ মুহূর্তে মুখ ঢেকে কথা বলার দায়ে লাল কার্ড দেখেন ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার পিয়েরো ইনকাপিয়ে।








