ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রথমবারের মতো পরিচালিত সমন্বিত বৃক্ষ শুমারিতে দেখা গেছে ক্যাম্পাসে ৬২টি গোত্রের ২৭৭ প্রজাতির মোট ১৭ হাজার ১৬১টি বৃক্ষ রয়েছে। মোট বৃক্ষ প্রজাতির মধ্যে ৫৮ শতাংশ দেশি এবং ৪২ শতাংশ বিদেশি। তবে সংখ্যার ভিত্তিতে দেশি বৃক্ষ ৫৪ শতাংশ ও বিদেশি ৪৬ শতাংশ।

ঢাবির আরবরি কালচার সেন্টারের উদ্যোগে পরিচালিত ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বৃক্ষ শুমারি ২০২৫’-এ এই তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ শুমারির ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাবির আরবরি কালচার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আবুল কালাম সরকার এবং আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবির। আরবরি কালচার সেন্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইকোলজিক্যাল রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুমারির তথ্য বলছে, ঢাবিতে সর্বাধিকসংখ্যক ১৫টি প্রজাতির মধ্যে পাঁচটি বিদেশি প্রজাতি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে মেহগনি, দেবদারু, ম্যাকারথুরি পাম, রেইনট্রি ও সেগুন উল্লেখযোগ্য। উপযোগিতার ভিত্তিতে ক্যাম্পাসের বৃক্ষসম্পদের মধ্যে ২৫ শতাংশ ফলদ, ২২ শতাংশ প্রাণিকূল-সহায়ক, ২১ শতাংশ ঔষধি, ২০ শতাংশ কাঠ উৎপাদনকারী এবং ১২ শতাংশ শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষ রয়েছে। বৃক্ষের স্বাস্থ্য মূল্যায়নে ১ হাজার ৮১১টি বৃক্ষকে বিভিন্ন মাত্রার স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে এবং ২ হাজার ২১৩টি বৃক্ষকে সম্ভাব্য বৃক্ষজনিত বিপর্যয় (ট্রি হ্যাজার্ড) শ্রেণিতে চিহ্নিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বৃক্ষ শুমারির মাধ্যমে ক্যাম্পাসের বৃক্ষসম্পদ সম্পর্কে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি হয়েছে। এটি ভবিষ্যতে সবুজায়ন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি দেশীয় ও পরিবেশবান্ধব প্রজাতির বৃক্ষরোপণ সম্প্রসারণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সবুজ, নান্দনিক ও টেকসই ক্যাম্পাস হিসাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।