ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৫০ জনেরও বেশি মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীর হাতে ইমদাদ-সিতারা খান বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়েছে। ১৪টি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত এসব শিক্ষার্থীকে বৃত্তির সনদ ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ইমদাদ-সিতারা খান ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং স্পন্দনবির উদ্যোগে এ বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘সার্টিফিকেটধারী না হয়ে ভালো মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকাটা বেশি প্রয়োজন। আমাদের উচিত নিজেকে সব সময় বড় মনে না করা। এদিক থেকে জাপানের নৈতিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
ঢাবি উপাচার্য আরও বলেন, ‘ইমদাদ স্যারের আত্মা তখনই শান্তি পাবে, যখন তাঁর শুরু করা বৃত্তির এই মহৎ উদ্যোগ থেকে ভালো মনের মানুষ গড়ে উঠবে।’
পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের পরমতসহিষ্ণুতা, নিয়মানুবর্তিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. এহসানুল হক বলেন, ‘বাবা-মায়েদের উচিত সন্তানরা যেন ভালো কিছু শিখতে পারে, সে বিষয়ে সচেতন থাকা। শুধু প্রথম হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া কখনোই উচিত নয়। জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দুটোই গুরুত্বপূর্ণ, তবে আমাদের বেশি প্রয়োজন প্রজ্ঞা।’
ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সিতারা খান বলেন, ‘এই বৃত্তি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়; এটি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের একটি উদ্যোগ।’ প্রতিষ্ঠাতা ড. ইমদাদ এইচ খান বিশ্বাস করতেন, প্রকৃত সাফল্য নিজের অর্জনে নয়, বরং অন্যের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার মধ্যেই নিহিত বলে জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আমেনা বেগম বলেন, ‘ইমদাদ-সিতারা খান বৃত্তি শুধু একটি বৃত্তি নয়; এটি মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণের একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম। গত ২২ বছরে এ কর্মসূচি হাজারো শিক্ষার্থীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।’
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়। সনদ গ্রহণ শেষে শিক্ষার্থীরা এ উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসমা বলেন, ‘এই বৃত্তি পাওয়ার ফলে আমি পড়াশোনায় আরও বেশি মনোযোগী হতে পেরেছি। এটি আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।’
আয়োজকেরা জানান, ২০০৪ সালে মাত্র চারটি ক্যাটাগরিতে ৭২ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে এ কর্মসূচির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে ১৪টি ক্যাটাগরিতে ৮৫০-এর বেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন স্পন্দনবির কান্ট্রি ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. আমেনা বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক সদস্য অধ্যাপক ড. এহসানুল হক।
স্বাগত বক্তব্য দেন স্পন্দনবির ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ ছাড়া ইমদাদ-সিতারা খান ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন সিতারা খান, সভাপতি মারুফা কানিজ এবং ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টারা ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বিশিষ্ট গবেষক ও পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ইম্পিরিয়াল কলেজ লন্ডন, নাসাসহ বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করেন। সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তিনি ২০০৪ সালে ইমদাদ-সিতারা খান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৬ সালে তাঁর মৃত্যুর আগে তিনি ফাউন্ডেশনের দায়িত্ব তাঁর সহধর্মিণী সিতারা খানের কাছে অর্পণ করেন।








