শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পেছানো এবং বন্যা ও দুর্যোগের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার দাবিতে রাজশাহীতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ২টা থেকে নগরীর তালাইমারী মোড়ে অবস্থান নিয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

সরেজমিনে দেখা যায়, অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং শিক্ষা বোর্ড-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

আরও পড়ুন

‘আজ প্রশ্ন সহজ, পরীক্ষা দিয়ে খুশি, তবুও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বৈরী আবহাওয়া ও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশের কারণে ওই বোর্ডের প্রায় ১১ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি বলে তারা দাবি করেন।

ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিগুলো তুলে ধরে বলেন, বন্যা ও দুর্যোগের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা প্রায় ১১ হাজার পরীক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দিতে হবে। শুধু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড নয়, পরিস্থিতি বিবেচনায় সারাদেশের পরবর্তী পরীক্ষাগুলোও পেছাতে হবে। পাশাপাশি চলমান এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তুলনামূলক সহজ করতে হবে এবং বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীকে দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করতে হবে।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের আকস্মিক মহাসড়ক অবরোধের ফলে সড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দূরপাল্লার যাত্রী থেকে শুরু করে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

আরও পড়ুন

নেইমারহীন ম্যাচে ব্রাজিলের ড্র

সিটি কলেজের শিক্ষার্থী ফারহান শাহরিয়ার বলেন, “সরকারের কাছে আমাদের তিন দফা দাবি ছিল, কিন্তু সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। আমাদের প্রশ্ন বুয়েটের মান অনুসরণ করে করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও শিক্ষামন্ত্রী বলছেন, প্রশ্নপত্র আগের সরকার তৈরি করে গেছে। এতে আমাদের সঙ্গে তামাশা করা হচ্ছে। তাই তিন দফা দাবি থেকে এক দফা দাবিতে নেমেছি। শিক্ষামন্ত্রীকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে মন্তব্য করার জন্য জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে হবে।”

নগরীর মডেল কলেজের শিক্ষার্থী এ কে এম শাহরিয়ার সিয়াম বলেন, ‘মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের সামনে আমাদের ভাই-বোনেরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করেছিলেন। কিন্তু সেখানে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। এরপরও সরকার বিষয়টি আমলে নেয়নি। পরীক্ষা পেছানো না হয়ে আজও পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তাই আমরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছি। আমাদের এক দফা দাবি- শিক্ষামন্ত্রী মিলন সাহেবের পদত্যাগ।’

পদ্মা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান বলেন, ‌‘পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্ন অত্যন্ত অযৌক্তিক হয়েছে। আমার মনে হয়, শিক্ষামন্ত্রী নিজেও এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবেন না। প্রশ্নপত্রে ভুল থাকলে আমরা উত্তর লিখব কীভাবে? তাই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি।’

মনির হোসেন মাহিন/এসজেডএইচ/জেআইএম