অব্যাহত বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদের বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে আউশ ধানসহ বিভিন্ন ফসলের মাঠ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মোকাবিল এলাকায় ধলাই নদের বাঁধ ভেঙে যায়। এতে নদের পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করে তিনটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়।
প্লাবিত এলাকার মধ্যে রয়েছে মোকাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেড়িগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায়বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেইতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোরামারা। এসব এলাকার ঘরবাড়ি, সড়ক ও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধলাই নদের মোকাবিল এলাকার এই অংশটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যকর ব্যবস্থা নিলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো। বন্যায় অনেকের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে এবং আউশ ধানসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাকিব মিয়া ও জাকির হোসেন বলেন, ‘বুধবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ ধলাই নদের বাঁধ ভেঙে যায়। প্রায় ১০০ মিটার অংশ ভেঙে গেছে। এতে কয়েকটি ইউনিয়নের বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।’
এদিকে ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়ছে। মনু ও ধলাই নদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দ্রুত বাড়ছে কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানিও।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ‘ধলাই নদে ভাঙন দেখা দিয়েছে। মোকাবিল এলাকার ওই অংশে বিএসএফের বাধার কারণে বাঁধ সংস্কারের কাজ পুরোপুরি করা সম্ভব হয়নি। যতটুকু সম্ভব কাজ করা হয়েছে।’
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।’








