নওগাঁর ধামইরহাটে নবম শ্রেণির এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি এবং তার পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার ধামইরহাট ইউনিয়নের শিবরামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করে তাঁদের জেলা কোর্ট হাজতে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের শিবরামপুর এলাকার আলম হোসেনের স্ত্রী জিন্নাতুন বেগম (৪৫), ছেলে তাকমিম হোসেন (২২) এবং বড় ছেলের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (২২)।
মামলার অভিযোগের বরাত দিয়ে ধামইরহাট থানা-পুলিশ জানায়, ওই শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় যাতায়াতের সময় অভিযুক্ত তাকমিম হোসেন প্রায়ই তাকে রাস্তায় একা পেলে আপত্তিকর কথাবার্তা বলতেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই শিক্ষার্থী মাঠে ছাগল বেঁধে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় একটি মালটা বাগানের কাছে ওত পেতে থাকা তাকমিম হোসেন যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তার হাত ধরে টানাহেঁচড়া করে বাগানের ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে ভুক্তভোগীর মা বাধার মুখে পড়েন। পরে অভিযুক্তরা বাড়িতে এসে শিক্ষার্থী, তার মা এবং ছোট ভাইকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা ওই দিনই ধামইরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে তাকমিম হোসেন বলেন, ‘সকালের দিকে বাইসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে ওই শিক্ষার্থীর মা আমাকে থামিয়ে বেদম মারপিট করে আহত করেন।’ তিনি আরও দাবি করেন, ওই শিক্ষার্থী গ্রাম-সম্পর্কে তার ভাস্তি।
অভিযুক্তের মা জিন্নাতুন বেগম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে ছেলেকে মারার বিষয়টি জানার পর প্রতিবাদ করতে যাই। এরপর কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাদের লোকজন আমাদের মেরে গুরুতর আহত করে।’ চক্রান্ত করে ছেলেসহ তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে এবং জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে গতকাল রাতেই ধামইরহাট থানা-পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে শিবরামপুর গ্রাম থেকে তাকমিম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আজ রোববার সকালে তাকমিমের মা জিন্নাতুন বেগম ও ভাবি মরিয়ম বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করার পর দুপুরে তাদের জেলা কোর্ট হাজতে পাঠানো হয়েছে।








