উজান থেকে নেমে আসা ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বগুড়ার ধুনটে একটি স্পার বাঁধের ৩০ মিটার অংশ ধসে গেছে। আজ শুক্রবার সকালের দিকে উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি স্পার এলাকায় এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বানিয়াজান থেকে শহড়াবাড়ি পর্যন্ত নদী তীরবর্তী এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার অংশে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এতে বাঁধে বসতি গড়ে বসবাস করা শত শত পরিবার শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই যমুনার ভাঙনে বাঁধ ও স্পার হুমকিতে পড়ে। তীব্র ভাঙনে বিলীন হয় ফসলি মাঠ, লোকালয়। শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কোনো আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। শুধু বর্ষা এলেই শুরু হয় বালির বস্তা ফেলানোর তোড়জোড়। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হয়। কোটি টাকা ব্যয় করলেও তেমন কোনো কাজে আসে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনার প্রবল ভাঙনে উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের বৈশাখী চর, রাঁধানগর, বথুয়ারভিটা, নিউসারিয়াকান্দি, আটারচর, পুকুরিয়া, ভূতবাড়ি, কৈয়াগাড়িসহ ৮ থেকে ১০টি জনপদ অনেক আগেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনে লোকালয়, বসতভিটা, ঘরবাড়ি ছাড়াও আবাদি জমি হারিয়ে এখন নিঃস্ব হাজারো মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙনরোধে ২০০৩ সালে পাউবো প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান অংশে নদীতে আড়াআড়িভাবে দুটি স্পার নির্মাণ করে। এর পর থেকে নদীর পানি অনেক দূর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিমুক্ত ছিল। ২০২১ সালে বানিয়াজান স্পারের বেশ কিছু অংশ ধসে গিয়ে প্রবল ভাঙনে জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হয়।

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে স্পার বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। এতে ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ। আজ শুক্রবার বিকেলে বগুড়ার ধুনট উপজেলার শহড়াবাড়ি এলাকায়

শুক্রবার নতুন করে শহড়াবাড়ির উজান অংশে প্রবল স্রোতে স্পারের অন্তত ৩০ মিটার অংশ ধসে গেছে। খবর পেয়ে পাউবোর বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান সেখানে পরিদর্শনে আসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শহড়াবাড়ি স্পারের উজানে ৩০ মিটার অংশ ভেঙে যাওয়ায় বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। এ কারণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জিও টিউব ও জিও টেক্সট ব্যাগ ফেলে হয়েছে। এখন অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত।

উজানের ঢলে কয়েক দিন ধরে যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে পাট, ধানের মতো ফসলসহ আবাদি জমি বিলীন হয়েছে। এতে আতঙ্কগ্রস্ত হয়েছে বাঁধে আশ্রিত বহু মানুষ। শহড়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা খোকা মিয়া বলেন, গত কয়েক দিনের নদীভাঙনে এলাকার অনেক কৃষকের আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ কারণে অনেকেই নিঃস্ব প্রায়।

তিন দিনের মধ্যে যমুনার স্পার বাঁধে আবারও ধস

স্থানীয় ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বছরজুড়ে নদীতীরবর্তী স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রি করেন। এতে স্পার ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবল ভাঙনে এখন হুমকির মুখে পড়েছে স্পার ও বাঁধ।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, নদীতীরবর্তী এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে যমুনায় বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। শহড়াবাড়ি স্পার এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতে পাউবো কাজ করেছে।